বাংলাদেশের তরুণদের নজির দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন তিন বিশ্বকাপজয়ী ম্যাক্সওয়েল

৭ নভেম্বর ২০২৩, ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার পথে আফগানিস্তান। ২৯২ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৯ ওভারে ৯৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বিপাকে অজিরা। হাল ধরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। সেদিন শুধু নিজের ক্যারিয়ারের নয়, ওয়ানডে ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ইনিংসটি উপহার দেন তিনি। ১০ ছয়, ২১ চারে ১২৮ বলে খেলেন ২০১ রানের অপরাজিত ইনিংস। শেষ বলে ৪৬.৫ ওভারে ছয় হাঁকিয়ে আফগানদের কাঁদিয়ে ৩ উইকেটে জিতে নেন ম্যাচ। সেই ইনিংসের তিন বছর হতে ৪ দিন বাকি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ইনিংসটি খেলা অজি কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ম্যাক্সওয়েল।
৩৮ বর্ষী অজি তারকা ছিলেন ডানহাতি ব্যাটার এবং অফস্পিনার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এবং ‘লিস্ট এ’ ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। তবে বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন। দলটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২৭-২৮ মৌসুম পর্যন্ত বাড়িয়েছেন।
ম্যাক্সওয়েল গত বছরের জুনে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন। টি-টুয়েন্টিতে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অজিদের স্কোয়াডে ছিলেন। বিশ্বকাপে তার দল গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয়। ফেব্রুয়ারিতে ওমানের বিপক্ষে সেই আসরে অস্ট্রেলিয়ার শেষ ম্যাচটি তার দেশের হয়ে খেলা শেষ ম্যাচ হল। সেদিন বল হাতে দুটি উইকেট নিয়েছিলেন। ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি।
এক পডকাস্টে ম্যাক্সওয়েল বলেছেন, ‘টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি পুরোপুরি উন্মুক্ত ছিল। দলের ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে কোন চাপ ছিল না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে ভবিষ্যতের জন্য দরজা খোলা রাখার। সামনে কয়েকটি সিরিজ ছিল যেখানে তারা ভবিষ্যতের দিকে নজর দিতে চেয়েছিল। যেমন আমরা বাংলাদেশে দেখেছি, যেখানে নতুন খেলোয়াড়রা সুযোগ পেয়ে দারুণ পারফর্ম করেছে।’
দুবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী এবং ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের ম্যাচে জয়সূচক রানটি করেন ম্যাক্সওয়েল। তবে একটি আক্ষেপ থেকে গেল তার, দেশের মাটিতে ঘরের মাঠে শেষবার জাতীয় দল জার্সিতে মাঠে নামতে পারেননি।
‘আমার মনে হয়, এমসিজিতে (মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড) বিদায়ী ম্যাচ খেলার একটি ক্ষীণ আশা বা সম্ভাবনা ছিল। তবে দল এখন যে পথে এগোচ্ছে, তা পুরোপুরি বুঝতে পারছি। ২০২৮ সালের অলিম্পিক সামনে রেখে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসে দলে অনেক পরিবর্তন আসবে। তাই তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেয়া এবং তাদের আন্তর্জাতিক চাপের সঙ্গে পরিচিত করে তোলা জরুরি। যে ধরনের চাপ হয়তো কেবল বিবিএলের ম্যাচগুলো থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। ’
ম্যাক্সওয়েল অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৩০টি টি-টুয়েন্টি খেলেছেন। ১৫৪.৪২ স্ট্রাইক রেটে ২,৮৯৭ রান করেছেন এবং ৫১টি উইকেট নিয়েছেন। এই ফরম্যাটে তার পাঁচটি সেঞ্চুরি রয়েছে, যা বিশ্বরেকর্ড। রেকর্ডে তিনি রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে অবস্থান করছেন। ১৪৯ ওয়ানডে খেলে ১২৬.৭০ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৩,৯৯০ রান। এখানে সর্বোচ্চ ২০১, আছে চারটি সেঞ্চুরি এবং ২৩টি ফিফটি। এ ফরম্যাটে ঝুলিতে আছে ৭৭টি উইকেট। টেস্টে তিনি ৭ বার মাঠে নেমেছেন, যার সর্বশেষটি ২০১৭ সালে, মোট ৩৩৯ রান করেছেন। এরমধ্যে ভারতের বিপক্ষে রাঁচিতে খেলা ১০৪ রানের ইনিংসটি সেরা পারফরম্যান্স।





