রেকর্ড ভাঙছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যয়, ছাড়াতে পারে ১২ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার-প্রচারণায় ব্যয়ের অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে মোট ব্যয় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নির্বাচনী অর্থায়ন নিয়ে কাজ করা স্বাধীন সংস্থা ওপেন সিক্রেটসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এই ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে প্রার্থীদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরের বিভিন্ন সংগঠন। সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা সুপার প্যাকস নামে পরিচিত এসব সংগঠন, ব্যক্তি, করপোরেশন ও শ্রমিক সংগঠনের কাছ থেকে সীমাহীন অনুদান সংগ্রহ করতে পারে। সরাসরি প্রার্থীকে অর্থ দিতে না পারলেও বিজ্ঞাপন ও প্রচারের মাধ্যমে তাদের সমর্থন জানায়।
ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য বলছে, ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শীর্ষ ৪০ দাতা ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো চক্রে এই সময়ে এত বেশি অনুদান আগে দেখা যায়নি।

ব্যক্তিগত দাতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। অক্টোবর পর্যন্ত রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন তিনি। এর বড় অংশ গেছে তার প্রতিষ্ঠিত আমেরিকা প্যাক এবং রিপাবলিকানপন্থী সেনেট লিডারশিপ ফান্ডে।
টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করছে আমেরিকা প্যাক। এ ছাড়া মিশিগান ও ওহাইওর নির্বাচনেও প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার করে খরচ করেছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম বড় দাতা সাবেক নিউইয়র্ক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ দিয়েছেন ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। ধনকুবের জর্জ সরোসের প্রতিষ্ঠিত দুটি প্রতিষ্ঠান উদারপন্থী সংগঠনগুলোকে যৌথভাবে দিয়েছে ১০২ মিলিয়ন ডলার। রিপাবলিকানদের পক্ষে জেফ ইয়াস ও রিচার্ড-এলিজাবেথ ইউলাইন দম্পতিও ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি দিয়েছেন।

নির্বাচনী অর্থায়নে পিছিয়ে নেই ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোও। ওপেন সিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, রিপল ও কয়েনবেস যৌথভাবে ৬৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত হয়ে উঠেছে বিজ্ঞাপন। অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনে ব্যয় হয়েছে ১১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। এর বড় অংশ গেছে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে। তবে ডিজিটাল প্রচারেও বাড়ছে বিনিয়োগ।
সিনেট নির্বাচন ঘিরে মিশিগান, টেক্সাস ও ওহাইওতে বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। এরপর রয়েছে আইওয়া ও মেইন।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা নয়, নির্বাচনী ব্যয়ের দিক থেকেও নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে।



