ডারউইনে স্বপ্নের ফানুস উড়ছেই বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই শতাধিক রানের লিড। এরপর বল হাতেও দারুণ করেছে টিম টাইগার্স। শুরুর দিকেই দুই ওপেনারকে ফেরান হাসান মাহমুদ। এরপর তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজও নেন গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট। ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারিতে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে স্বাগতিকরা। এখনও ৬৭ রানে এগিয়ে থেকে ইতিহাস গড়ার পথে ছুঁটছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বৃহস্পতিবার মারারা স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে থামে স্বাগতিকরা। জবাবে নেমে প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভারে ৪২৬ রান করে বাংলাদেশ। ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় দিনের খেলা শেষের আগে ৫৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬১ রান তুলেছে তারা। গ্রিন ৪৩ এবং ক্যারি ১৯ রানে চতুর্থ দিন ব্যাটে নামবেন।
অজিদের দ্বিতীয় ইনিংসে পাঠিয়ে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট নেন হাসান। তৃতীয় বলে জ্যাক ওয়েদারল্যান্ডকে বোল্ড করেন। রানের খাতা খোলার আগে ফেরেন অজি ওপেনার। ৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ৩৭ রানে ট্রাভিস হেডকে বোল্ড করেন হাসান। ৩৫ বলে ১৭ রান করেন।
তৃতীয় উইকেটে ৩৬ রানের জুটি গড়েন স্টিভেন স্মিথ ও মার্নাস লাবুশেন। ২০তম ওভারের শেষ বলে লাবুশেনকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৫৯ বলে ৩১ রান করেন। ৭৩ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে ৪৯ রান যোগ করেন। ৩৭.২ ওভারে ১২২ রানে স্মিথকে ফেরান মিরাজ। টাইগার স্পিনারের ফুল লেংথের বল আলতো করে ঠেকিয়ে দিন স্মিথ। ডানদিকে ক্ষিপ্র ভঙ্গিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে কোনো ভুল না করেই তা লুফে নেন মিরাজ। ৫ চারে ৮৮ বলে ৪৪ রান করেন।
পরে ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারির অবিচ্ছিন্ন ৯৪ বলে ৩৯ রানের জুটিতে দিন পার করে অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে হাসান মাহমুদ দুই উইকেট নেন। মিরাজ ও তাইজুল নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রানে শনিবার তৃতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশ। মিরাজ ৩২ রানে এবং হাসান ১৩ রানে ব্যাটে নামেন। দিনের চতুর্থ ওভারে ৩৫৪ রানে হাসান মাহমুদের উইকেট পড়ে। হ্যাজেলউডের বল সরাসরি হিট করে হাসানের প্যাডে। অস্ট্রেলিয়া ফিল্ডারদের আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার, রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি। ভাঙে হাসান-মিরাজের ১৭০ বলে ৪৬ রানের জুটি। ৯২ বলে ১৪ রানে ফেরেন।
অষ্টম উইকেট জুটিতে তাইজুল ইসলাম এসে কিছুটা ওয়ানডে মেজাজে শুরু করেন। তবে ইনিংস টানতে পারলেন না বেশিক্ষণ। হ্যাজেলউডের চতুর্থ শিকার হন। অজি পেসারের গুড লেংথের বলে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন। ব্যাটের পাশে লেগে বল যায় গ্রিনের হাতে। ১টি করে চার ও ছক্কায় ২৩ বলে ১৭ করেন। ৩৭২ রানে অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
নবম উইকেটে তাসকিনকে নিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেনে মিরাজ। ১১৭ বলে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে ছিল ৫টি চারের মার। টাইগার অলরাউন্ডারের ১০ টেস্ট ফিফটি এটি।
এই জুটিতে মিরাজ-তাসকিন মিলে ৪৬ রান যোগ করেন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর নেমেই উইকেট বিলিয়ে আসেন মিরাজ। হ্যাজেলউডের অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বলে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন। এজ হয়ে যায় ক্যারির গ্লাভসে। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ১৫৪ বলে ৬৫ রান করেন মিরাজ।
হ্যাজেলউডের পঞ্চম শিকার মিরাজ, সেইসঙ্গে অজি পেসার পৌঁছান টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকে। নবম অজি ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন। এরপর ১৩৮তম ওভারের শেষ বলে ইবাদতকে ফেরান তিনি। ৪২৬ রানে থামে বাংলাদেশ। ১৮ বলে ৭ রান করেন ইবাদত। তাসকিন অপরাজিত থাকেন ৩২ বলে ১৪ রানে।
প্রথম ইনিংসে টাইগার ব্যাটারদের মধ্যে তানজিদ তামিম সেঞ্চুরি করেন, ১০১ রানের ইনিংস খেলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪, মুমিনুল হক ৪৯, মুশফিকুর রহিম ৩৬ রান করেন।
অস্ট্রেলিয়া বোলারদের মধ্যে জশ হ্যাজেলউড ৬ উইকট নেন। মিচেল স্টার্ক ২, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে বৃহস্পতিবার ব্যাটে নেমে হাসান মাহমুদের তোপে পড়েছিল অজিরা। প্রথমদিনে চা বিরতির পরপর ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভেন স্মিথ। জ্যাক ওয়েদারল্যান্ড ২৩, ট্রাভিস হেড ২২ এবং অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রান করেন।
১৭ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। ৩৯ রানে ২ উইকেট নেন ইবাদত হোসেন। ৫৫ রানে ২ উইকেট নেন তাসকিন।










