আন্তর্জাতিক

উড়োজাহাজে ক্যাপ্টেনকে হামলার বিষয়ে যা জানা গেল

উড়োজাহাজে ক্যাপ্টেনকে হামলার বিষয়ে যা জানা গেল

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেনকে ককপিটে থাকা কুড়াল দিয়ে হামলা করেছিলেন সহকারী পাইলট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অ্যাটর্নি জেনারেল এ তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার ৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানায়।

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ওই উড়োজাহাজে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি হঠাৎ ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এ সময় যাত্রীরা হামলাকারীকে কাবু করে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করেন।

আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চার জানান, তিনি তখন মেঝেতে পড়ে ছিলেন। উড়োজাহাজ নিচে নামতে শুরু করলে তিনি বুঝতে পারেন, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পরে আহত অবস্থায় ককপিটের দরজা ভেতর থেকে খোলার চেষ্টা করেন তিনি। এতে যাত্রীরা ককপিটে ঢোকার সুযোগ পান।

এরপর দুই বিকল্প পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি।

সাধারণত জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য ককপিটে একটি কুড়াল রাখা হয়। এ ঘটনায় সেটি কীভাবে সহকারী পাইলটের হাতে গেল, তা তদন্তের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। এর আগে কয়েকজন যাত্রী অস্ত্রটি ছুরি হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন।

ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, ঘটনার পুরো পরিস্থিতি ও হামলার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে। ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ওমানের নাগরিক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাকে হামাম আল-হামামি নামে শনাক্ত করেছে। তবে তার নামের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে  নিশ্চিত করা হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামামি আগে ওমান এয়ারে কাজ করতেন। তার উগ্র মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ থাকায় তাকে পাইলট প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

ইউনিভার্সিটি অব বাকিংহামশায়ার জানিয়েছে, তিনি সেখানে তিন বছরের দূরশিক্ষণ কোর্স করে ২০২৩ সালে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে সেখানে তিনি কোনো পাইলট প্রশিক্ষণ নেননি।

নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামলাকারীকে কাবু করার পর সে ক্রুদের উদ্দেশে ‘আমাকে মেরে ফেলো’ বলে চিৎকার করেছিল। তার ভাষ্য, এতে হামলাকারীর আত্মঘাতী মানসিকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায় এবং উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা থাকতে পারে।

তবে হামলার উদ্দেশ্য ও ঘটনার সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগসূত্র ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।

হামলার সময় ক্যাপ্টেন মাচ্চার ছুরিকাহত হন। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবুধাবিতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের দূতাবাস।

এদিকে উড়োজাহাজটির যাত্রীদের কয়েকজন জানান, ককপিট থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনে এক ইসরায়েলি নারী বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তার স্বামীসহ কয়েকজন যাত্রী ককপিটে প্রবেশ করেন।

যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুনের দাবি, হামলাকারী উড়োজাহাজের যন্ত্রপাতি নষ্ট করে সেটিকে অচল করার চেষ্টা করছিলেন। পরে তিনি হামলাকারীকে চেপে ধরেন। অন্য যাত্রীরাও তাকে কাবু করতে সহায়তা করেন।

হায়ুন জানান, একপর্যায়ে তিনি উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেন। এতে সেটি কিছুটা স্থিতিশীল হয়। পরে আরেক পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু পরে দাবি করেন, পাইলট, যাত্রী ও অন্য ক্রুদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বড় ধরনের একটি বিমান দুর্ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

বিষয়:ইউএই উড়োজাহাজ ক্যাপ্টেনকে হামলা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহকারী পাইলট

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…