নব্বইয়ের ক্যাম্পাসের সত্য ঘটনায় দুর্গাপূজায় ‘চিরকুট’

নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাস জুড়ে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, বন্ধুত্ব, নস্টালজিয়া, প্রেম আর জীবনের নানা গল্প। সেই সময়ের একটি সত্য ঘটনা এবার উঠে আসছে বড় পর্দায়। সেই গল্পকে একালের সিনেমার ভাষায় দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’।
আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি চলছে চলচ্চিত্রটির। ফিল্ম ম্যানিয়া প্রযোজিত চলচ্চিত্রটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নির্মাতা মুনতাসির আকিব।
এর পোস্টার উন্মোচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ফিল্ম ম্যানিয়ার নিকেতন কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠানের। পোস্টার উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ‘চিরকুট’-এর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক সমিতির সাবেক সভাপতি ও চলচ্চিত্র পরিচালক খোরশেদ আলম খসরু এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও লেখক লুৎফর হাসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মুনতাসির আকিব। অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে ছিলেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মীম, সুমন পাটোয়ারী, সিয়াম নাসির, মাহিরা হাসান, সাদি খান, শামীম আহসান ও ইমু। আরও ছিলেন সংগীতশিল্পী স্নেহাশিস চক্রবর্তী অভি, সংগীত পরিচালক অভিষেক ভট্টাচার্যসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই।
নির্মাতা জানান, নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প ‘চিরকুট’-এর গল্পের পটভূমি নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সময়ের ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীদের জীবনযাপন, বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, আবেগ এবং একটি সত্য ঘটনার স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া একটি সময়কে বর্তমান প্রজন্মের দর্শকদের সামনে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
এতে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মীম, কাজী নওশাবা, সুমন পাটোয়ারী, তেহজিব, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, সঞ্জিব আহমেদ, শাওন আশরাফ, ইকবাল, আজমল মিঠু, সিয়াম নাসির, শিমুল, সাদি খান, শামীম আহসান, শেখ চাঁদনী, মাহিরা হাসান, ইব্রাহিম সুজনসহ আরও অনেকে।
শুধু পেশাদার অভিনয়শিল্পীরাই নন, ‘চিরকুট’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। চলচ্চিত্রটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন শিক্ষার্থী অভিনয় করেছেন।
ফলে সিনেমাটিতে শুধু গল্পের সময়কালই নয়, তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের আবহও বড় পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
‘চিরকুট’-এ রয়েছে চারটি গান। গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন রেহান রাসুল, মাশা,স্নেহাশিস চক্রবর্তী অভি, মেহেদী সরকার, রাকিব ও ঐশী। গানগুলোর কথা লিখেছেন লুৎফর হাসান, পুলক অনিল, স্নেহাশিস চক্রবর্তী অভি ও মেহেদী সরকার। সংগীত আয়োজনে ছিলেন শান্ত, অভিষেক ভট্টাচার্য, খৈয়াম সানু সন্ধি ও মেহেদী সরকার।
নির্মাতা জানান, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে পর্দায় তুলে ধরা নির্মাতার জন্য ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সময়ের পার্থক্য, পোশাক, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং সে সময়ের জীবনযাপনের নানা অনুষঙ্গকে গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
নির্মাতা মুনতাসির আকিব বলেন, “নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনা থেকেই ‘চিরকুট’-এর গল্পের সূত্রপাত। সেই সময়ের পরিবেশ, মানুষের আবেগ এবং ঘটনাটিকে সিনেমার ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দর্শক যেন শুধু একটি গল্প দেখেন না, বরং একটি সময়কে অনুভব করতে পারেন—সেটাই আমাদের চেষ্টা।”
দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নির্মাণপর্ব শেষে এখন মুক্তির অপেক্ষায় ‘চিরকুট’। নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প, সেই সময়ের আবহ এবং বিশাল অভিনয়শিল্পী দলের উপস্থিতি নিয়ে চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের।
সেকালের গল্প, একালের সিনেমা এই ভাবনা নিয়েই আসন্ন দুর্গাপূজায় প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের সামনে হাজির হওয়ার অপেক্ষায় ‘চিরকুট’।






