ঈদের পর ফাঁকা হল, পূজায় তিন সিনেমায় ফিরবে দর্শক?

ঈদের পর থেকে ‘মানসম্মত সিনেমার অভাবে’ প্রেক্ষাগৃহগুলো একেবারেই দর্শক শূন্য! বিদ্যুৎ বিল, স্টাফ সেলারি দিতে না পারায় অনেক প্রেক্ষাগৃহে তালা ঝুলছে! এ কারণের বারবার ‘মানসম্মত সিনেমা’ মুক্তির তাগিদ দিয়ে যাচ্ছিলেন হল মালিকরা।
চলতি বছরের দুই ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো ছাড়া মোটেও আলোচনা তৈরি করতে পারেনি ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’, ‘সর্দার বাড়ির খেলা’, ‘আতর বিবিলেন’, ‘মাস্তুল’, ‘বউ নিয়ে যুদ্ধ’, ‘বাপজান’, ‘ভালোবাসি হয়নি বলা’, ‘শেকড়’-এর মতো মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো।
ঈদ ছাড়া একসঙ্গে ১৬ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে একসঙ্গে ‘চিরকুট’, ‘কাটপিস’, ‘স্নেহের বন্ধন’ তিনটি সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা এগুলোর মুক্তি নিয়েও আশাবাদী। এরমধ্যে কোনো সিনেমার টার্গেট শুধু সিনেপ্লেক্স-মাল্টিপ্লেক্স কেন্দ্রিক, আবার কোনোটি সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্স উভয়ই! তবে মুক্তির পর এই সিনেমাগুলো দিয়ে কতটা চাঙ্গা হতে পারে বাংলা সিনেমার বাজার সেটাই দেখার বিষয়!
অসংখ্য বিজ্ঞাপন বানিয়ে সুনাম অর্জন করা নির্মাতা মুনতাসির আকিব বানিয়েছেন ‘চিরকুট’। তিনি তার এই সিনেমায় নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসজুড়ে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, বন্ধুত্ব, নস্টালজিয়া, প্রেম আর জীবনের নানা গল্প দেখিয়েছিলেন।
নির্মাতা জানান, সেই সময়ের একটি সত্য ঘটনা উঠে এসেছে এই সিনেমায় সেকালের সেই গল্পকে একালের সিনেমার ভাষায় দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
এর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মীম, কাজী নওশাবা, সুমন পাটোয়ারী, তেহজিব, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, সঞ্জিব আহমেদ, শাওন আশরাফ, ইকবাল, আজমল মিঠু, সিয়াম নাসির, শিমুল, সাদি খান, শামীম আহসান, শেখ চাঁদনী, মাহিরা হাসান, ইব্রাহিম সুজন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ অক্টোবর ‘চিরকুট’ মুক্তি পাবে শুধু সিনেপ্লেক্স-মাল্টিপ্লেক্সে। মুনতাসির আকিবের এই সিনেমার ট্যাগ লাইন ‘বিশুদ্ধ বাংলা সিনেমা’। পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মত পারিবারিক খাঁটি বাংলা সিনেমা হচ্ছে ‘চিরকুট’। এখানে এডাল্ট কিছু নেই। তাই পরিবার নিয়ে দেখতে বিব্রত হবেন না কেউ। আমরা শুধুই সিনেপ্লেক্স কেন্দ্রিক হলে মুক্তি দেব। সিঙ্গেল স্ক্রিনে পাইরেসির ভয় সাথে দর্শকরা ঠিকভাবে যায় না।
গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসাকে ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থ, ক্ষমতা, আধিপত্য ও সংঘাতের জগতই ‘কাটপিস’-এর গল্পের মূল ভিত্তি। রয়েছে ফ্যামিলি ড্রামা! ইতোমধ্যে সিনেমাটির একটি আইটেম গান প্রকাশিত হয়েছে। ট্রেলার আসবে আগামী সপ্তাহে। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিফাত আমিন শুভ, নানজীবা তোরসা, ইমরান আহমেদ সওদাগর, বাপ্পী আশরাফ, সাইফুল কবির, এলিনা শাম্মী।
‘কাটপিস’ নির্মাণ ও প্রযোজনা করেছেন ইফফাত জাহান মম। এর আগে ‘মুনতাসির’ বানিয়ে আইসিটি-চ্যানেল আই আওয়ার্ড পেয়েছিলেন তিনি। নির্মাতা বলেন, র-লোকেশন শুটিং করেছি। এই ব্যবসার ভেতরের মানুষ, তাদের অর্থনৈতিক ও ক্ষমতার সম্পর্ক এবং সেই জগতের সংঘাতকে মূলধারার সিনেমার গল্প হিসেবে তুলে ধরার জায়গাটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। সেই জায়গা থেকেই ‘কাট-পিস’ নির্মাণের শুরু।”
ইফফাত জাহান মম জানান, ‘কাটপিস’ সবার জন্য নির্মিত সিনেমা। তাই সিঙ্গেল স্ক্রিন, সিনেপ্লেক্স দুই মাধ্যমেই মুক্তি নিশ্চিত করেছি।
‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’র পরিচালক কামরুজ্জামান নির্মিত জয় চৌধুরী ও মৌ খান অভিনীত আরেক সিনেমা ‘স্নেহের বন্ধন’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে ১৬ অক্টোবর। নায়ক ও শিল্পী সমিতির সেক্রেটারি জয় সিনেমাটি মুক্তির খবর নিশ্চিত করে বলেন, পূজা উপলক্ষে ‘স্নেহের বন্ধন’ মুক্তি দিতে যাচ্ছে।
কী আছে এই সিনেমায়, কেন দর্শক দেখবে ‘স্নেহের বন্ধন’, এই সিনেমাই বা কতটা সফল হতে পারবে? প্রশ্ন রাখলে উত্তরে জয় চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, যত বড় সিনেমাই আসুক না কেন ব্যবসা কেমন হবে, দর্শক কীভাবে গ্রহণ করবে, সেটা আগে থেকে কেউ বলতে পারে না। ঈদ ছাড়া এখন সিনেমা রিলিজ দেওয়া অনেক বড় সাহসের ব্যাপার। এক্ষেত্রে আমার প্রযোজক সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। তাকে ধন্যবাদ।
‘স্নেহের বন্ধন’ যদি পাঁচজন দর্শকও হলে গিয়ে দেখে, তাহলে ওই পাঁচজনই সন্তুষ্ট হয়ে হল থেকে বের হবেন। আমার ধারণা, যারা বাংলা সিনেমাকে ভালোবাসে এবং চলচ্চিত্রের খাঁটি দর্শক এমন একটি সত্য ঘটনা নিয়ে বানানো যে তারা সবাই পছন্দ করবেন। আর শাহরুখ খানের সিনেমারও হেটার্স আছে, সেখানে আমারও থাকবে খুব স্বাভাবিক। কারণ স্টার হলে তার হেটার্স থাকবেই। সেই আলোচনায় না যাই।’
সবশেষে জয় চৌধুরী বললেন, সিনেমা চলবে কি চলবে না সেটা পরের বিষয়, তবে যে প্রমোশন বাংলাদেশে আগে কখনও হয়নি আমরা সেই প্ল্যান করেছি। দর্শকদের সিনেমা হলে আনবো, বাকিটা মুক্তির পর দর্শক রায় দেবেন ‘স্নেহের বন্ধন’ কেমন হলো।






