বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাপী চ্যানেল আই

বিশ্বব্যাপী চ্যানেল আই

বিশ্বব্যাপী চ্যানেল আই। এই নামে চ্যানেল আই থেকে অনুষ্ঠান প্রচার হয়েছে এটা আপনারাও জানেন। চ্যানেল আই যখন আটাশ বছরে পদার্পণ করছে তখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাঙালিরা চ্যানেল আই দেখতে পান। যেকোনো অনুষ্ঠান তারা উপভোগ করতে পারেন। যেকোনো বাংলাদেশি হৃদয়ে যে বাংলাদেশ ধারণ করেন তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে চ্যানেল আইয়ের কথা। চ্যানেল আইয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা। চ্যানেল আইকে আমরা বলি ‘একটি পরিবার’। এই পরিবারের অনেক সদস্য নানাভাবে নানান পেশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। তারা বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন। বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে চ্যানেল আইয়ের যে প্রভাব তারা সে কথা অকপটে স্বীকার করেন। চ্যানেল আই এফএলপি নামে একটি অনুষ্ঠান করতো। সেই অনুষ্ঠানে যারা গ্রাজুয়েশনে ভালো রেজাল্ট করতেন তাদেরকে মাস্টার্স করার জন্য চ্যানেল আই, ইউরোপের কয়েকটি দেশের ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চুক্তি করেছিল। অনেকেই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়েছিলেন। রিয়েলিটি শো-এর মাধ্যমে যাদের মেধা যাচাই করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল।

চ্যানেল আই, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বিচারকরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মেধাবীদের মধ্যে কারা বিদেশে গিয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ পাবেন। চ্যানেল আইয়ের খরচে তারা বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাদের অনেকেই পরে দেশে ফিরে এসেছেন। আবার কেউ কেউ বিদেশে নানারকম কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। যে বিশ্বিবিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার জন্য তারা গিয়েছিলেন সেখানে ভালো রেজাল্ট করে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তারা প্রমাণ করেছেন বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরাও এগিয়ে যেতে পারে। তারা তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন নানাভাবে।

আমাদের দেশের শিল্পীরা বাইরের দেশে বিশেষ করে বাঙালি অধ্যুষিত দেশ আমেরিকার কথাই যদি বলি সেখানে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারে কিংবা চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠে বা চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজে অংশগ্রহণ করেছেন। তারা এখন বিশ্বের অনেক দেশে তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা বিস্মিত হবো না খুব শিঘ্রই যদি দেখতে পাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নাটক, সিনেমায়, বেতার কিংবা টেলিভিশনে এইসব শিল্পীর পরিবেশনা।

আমাদের লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার-এর অনেক তারকা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতা এবং বোম্বেতে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। আর দর্শকদের কথা যদি বলি- তারা বুক উঁচিয়ে বলতে পারেন, আমরা বাংলাদেশের একটি চ্যানেলের কথা বলতে পারি, যে চ্যানেলটি দেখলে বুঝা যায় কারিগরি দিক থেকে এবং অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে আমরা কত উন্নত।

আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন এমন অনেকেই এখন বিদেশে নানান টেলিভিশনে কাজ করছেন। বিবিসি, সিএনএন কিংবা ডিডাব্লিউডি-এর মতো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। বিবিসির মূল অফিস থেকে বাংলাদেশে প্রথম একটি অনুষ্ঠান করেছিল। সেই অনুষ্ঠানের জন্য তারা পরিকল্পনা করেছিল তাদের অনেক ক্রু এবং সরঞ্জামাদি বাংলাদেশে আনার। কিন্তু চ্যানেল আইতে এসে কার্যালয় পরিদর্শন এবং কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর শুধুমাত্র একজন প্রযোজক তার সহকারী এবং উপস্থাপককে নিয়ে তারা ঢাকায় এসেছিলেন। সেটিই একমাত্র অনুষ্ঠান যেটা বাংলাদেশ থেকে ধারণ করে নিয়ে তারা বিবিসি’তে প্রচার করেছিল। এরকম অসংখ্য অনুষ্ঠানের কথা কিংবা ঘটনার কথা বলা যেতে পারে যেসব কাজ আমাদের ছেলেমেয়েরা করেছে। সেগুলো দেখে মুগ্ধ হয়েছে বিদেশিরা।

সিনেমার ক্ষেত্রেও একই কথা। বাংলাদেশের সিনেমা এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে। অনেক পুরস্কারও অর্জন করছে। এমনকি অনেক সিনেমার স্ক্রিপ্ট তৈরি হয়ে আছে। তারা স্ক্রিপ্ট তৈরি হওয়ার পর থেকেই ফান্ড পাওয়া শুরু করেছে। তারা এই ফান্ড দিয়ে তৈরি করবেন পৃথিবীর সেরা সিনেমার একটি। অস্কারে গাজী রাকায়েত-এর একটি সিনেমা যতদূর পর্যন্ত গিয়েছিল ততদূর এই উপমহাদেশের আর কোনো সিনেমা গিয়েছিল কিনা আমার জানা নেই। এইভাবে সারা পৃথিবীতে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম চ্যানেল আই, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের মুখ উজ্জ্বল করছে। তাদের সঙ্গে তাদের পরিবারের যে মানুষ রয়েছে সেই মানুষগুলোকে নিয়ে, এই মানুষগুলো যেমন আপনার পরিবার তেমনি চ্যানেল আই পরিবারের অংশ।

চ্যানেল আই এটাই বিশ্বাস করে, বিশ্বে যেসব বাঙালি রয়েছেন তারা এগিয়ে যাওয়া মানে চ্যানেল আই এগিয়ে যাওয়া। আটাশ বছর বয়সে চ্যানেল আই এটা তো ভাবতেই পারে। এই ভাবনার ব্যাপারে আপনার ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা।

বিষয়:ইমপ্রেস টেলিফিল্মক্ষুদে গানরাজচ্যানেল আইচ্যানেল আই পরিবারসিনেমাসেরাকণ্ঠ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…