নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ শিশু। চোখের সামনে পরিবার পরিজন হারানো ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা এখন অবস্থান করছে বাংলাদেশে। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সেসব শিশুর জন্য নানা ধরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শিশুদের ওইসব ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভুলিয়ে দিতে চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু সে চেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ করে ক্যাম্পগুলোতে থাকা শিশুরা তাদের ওইসব অভিজ্ঞতাকেই বার বার ফুটিয়ে তুলছে তাদের আঁকা বিভিন্ন ছবিতে। ইউনিসেফ’র ফেসবুক পেজে এমনই কিছু ছবি দেখতে পেল সারাবিশ্ব। সামরিক হেলিকপ্টার থেকে বোমা ফেলে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া, নির্যাতিত মানুষ নৌকায় করে পালিয়ে যাচ্ছে, গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ মেরে ফেলা হচ্ছে ইত্যাদি নানা বিষয় উঠে আসতে দেখা গেছে ওইসব ছবিতে। রোহিঙ্গা শিশুদের আঁকা এসব ছবিই বলে দেয় নির্যাতনের ঘটনা তাদের মনে কতটা ক্ষত তৈরি করেছে। ভুলে যাওয়া তো দুরের কথা প্রতিনিয়ত সেসব স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের। তারা ভয়াবহতার স্মৃতি ভুলে স্বাভাবিকতায় ফিরতে পারবে কিনা তা নিয়ে এখন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিশুদের মন থেকে যদি এই অবস্থা দূর না করা যায় তাহলে ভবিষ্যতে তারা নানা ধরনের অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। যুগ যুগ ধরে নিজেদের দেশ মিয়ানমারে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি যে অবহেলা, অনাচার ও অত্যাচার সহ্য করেছে, তার চূড়ান্ত প্রকাশ হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সাহায্য হিসেবে যে মৌলিক সাহায্য দেয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে ওইসব শিশুদের মানসিক ক্ষত দূর করতে এই জনগোষ্টির শিশুদের দিকে বিশেষ নজর দেয়া দরকার বলে আমরা মনে করি। এ বিষয়ে জাতিসংঘ, বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশের বিশেষায়িত সংস্থাগুলো জরুরি ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে পদক্ষেপ নেবে বলে আমাদের আশাবাদ।









