সিরিজের প্রথম টেস্টে সাউথ আফ্রিকার কাছে লজ্জাজনক হারের পর দলের বোলারদের কাঠগড়ায় তুলেছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। সেইসঙ্গে গত কয়েক বছরে অর্জিত সুনাম হারানোর শঙ্কায় সতীর্থদের প্রতি সতর্কবাণীও শুনিয়েছেন তিনি।
পচেফস্ট্রম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯০ রানে গুটিয়ে ৩৩৩ রানে হারের লজ্জায় ডুবেছে বাংলাদেশ। ম্যাচে বোলারদের পারফরম্যান্সে খুবই হতাশ মুশফিক। তাদের নিজে এগিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছেন অধিনায়ক, ‘স্কিলের উন্নতি নিজেরই করতে হয়। কেউ বারবার আপনাকে শিখিয়ে দেবে না। ব্যাটিংয়ে যারা আছে, ব্যক্তিগতভাবে তারা যে উন্নতি করেছে, বোলিং ইউনিট হিসেবে আমরা সেই উন্নতি করতে পারিনি। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা ধাক্কা।’
‘আমি এখনই বলছি না, ওদের দুই দিকে বল সুইং করাতে। অন্তত জায়গায় তো বোলিং করতে পারবে। এটার জন্য একজন কোচের দরকার হয় না। এটা আপনি নিজে থেকেও করতে পারেন।’ যোগ করেন অধিনায়ক।
কাজটা যে বোলাররা করেন না তেমনটাও বলছেন না মুশফিক, ‘আমরা এই কাজটা এক-দুই দিন হয়ত করি, কিন্তু এটা আমাদের দিনের পর দিন করে যেতে হবে। ভবিষ্যতে আমাদের করতে হবে, যদি আমরা যে সম্মান অর্জন করেছি সেটা হারাতে না চাই। আমার মনে হয়, বোলিং ইউনিট হিসেবে আমাদের শেখার অনেক, অনেক, অনেক বাকি আছে।’
সাউথ আফ্রিকায় এমন উইকেট পাবেন আগে চিন্তাও করেননি মুশফিক। তাই উইকেটের প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, ‘ফ্ল্যাট উইকেটে যে আমাদের বোলারা (ভালো) বোলিং করতে পারবে না সেটা আমি কখনোই বিশ্বাস করি না। ফ্ল্যাট উইকেটে আপনি উইকেট না পান, অন্তত একটা লাইন-লেন্থে তো বোলিং করতে পারবেন। এই স্কিলের জন্যই আপনি জাতীয় দলে খেলেন। নইলে তো আমিও ছয়টা বলের মধ্যে দুইটা বল লাইনে ফেলতে পারতাম।’
গত কয়েক বছর ধরে দারুণ ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। সে পথ ধরে সুনামও অর্জিত হয়েছে অনেক। কিন্তু সাউথ আফ্রিকায় একটা সফরেই যেন সেই সুনাম নষ্ট না হয় তা মনে করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক।
‘আমাদের আরেকটা সুযোগ আছে পরের টেস্টে। অবশ্যই অনেক বড় কিছু করে দেখাতে হবে। নয়তো এরকম লজ্জা ছাড়া আমরা কিছুই নিয়ে যেতে পারব না। চেষ্টা থাকবে ঘুরে দাঁড়িয়ে যেন আমাদের সেরাটা দিতে পারি। গত দুই-তিন বছর ধরে আমরা যে সম্মান অর্জন করেছি সেটা যেন বজায় রাখতে পারি। সেটা যেন না হারাই সেই চেষ্টাই থাকবে।’










