বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আর্ল রবার্ট মিলারকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে মার্কিন সিনেট। বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাটের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।
দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে শনিবার চূড়ান্ত মনোনয়নের ঘোষণাটি দেয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশে আসার আগেই মিলারকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূত পদের জন্য শপথ নিতে হবে এবং দায়িত্ব শুরুর আগে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে।
এর আগে গত ১৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে এই কূটনীতিকের নাম ঘোষণা করেন।
সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের অন্যতম ক্যারিয়ার মেম্বার আর্ল রবার্ট মিলার বর্তমানে বতসোয়ানায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর বতসোয়ানায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নেন মিলার।
দায়িত্ব নেয়ার আগে তিনি ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সাউথ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে কনস্যুলেট জেনারেল ছিলেন।
এর আগে মিলার ২০০৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে, ২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বাগদাদে এবং ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত জাকার্তায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গত এক দশকের অধিকাংশ সময়ই মিলার ব্যয় করেছেন পরিবেশ রক্ষার দাবি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন নিয়ে গঠিত বেশকিছু জোটের সঙ্গে কাজ করে। দৃঢ় সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব ও নীতিমালা বিষয়ে সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টির পাশাপাশি সংকট মোকাবেলা এবং আইন প্রয়োগ বিষয়ে অভিজ্ঞতার কারণে কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রশংসিত এই কূটনীতিক।
বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি মিশনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করাসহ কূটনীতিক নিরাপত্তা সেবা বিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন আর্ল আর মিলার।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগে দেয়া তথ্যে বলা হয়েছে, আর্ল রবার্ট মিলারের রয়েছে সন্ত্রাস দমন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে বিস্তৃত জ্ঞান এবং কাজ করার অভিজ্ঞতা। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে দেশের বেশ কিছু নিরাপত্তা প্রকল্প তদারকির দায়িত্বেও ছিলেন। বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রসারের সুযোগ নিয়েও কাজ করেছেন মিলার। এ কারণে তিনি বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনে সুযোগ্য।
আর্ল আর মিলার ১৯৮১তে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং ১৯৯৪তে ভার্জিনিয়ার ইউনাইটেড স্টেটস মেরিন কর্পস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৮১ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মিলার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন সেনা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর ইউএস মেরিন কর্পস রিজার্ভে ছিলেন ১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। তিনি ওয়াশিংটনে ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস (ডিএসএস) সদর দপ্তরে ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৫ এবং ফিল্ড অফিসার হিসেবে স্যান ফ্রান্সিসকোতে ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৮ ও মিয়ামিতে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত তিনি সহকারি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে এল সালভাদরের স্যান সালভাদরে ছিলেন।
এছাড়া ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ গ্যাবোরোনে সিনিয়র আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সহকারি স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ হিসেবে ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ডিএসএস ও বোস্টন ফিল্ড অফিসে এবং ২০০০ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কুয়ালালামপুরে সিনিয়র আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন।
মিলার স্টেট ডিপার্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ফর হিরোইজম, এফবিআইয়ের শিল্ড অব ব্রেভারি এবং ল’ এনফোর্সমেন্ট অভিসার্স এসোসিয়েশনের ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন। সামরিক বাহিনীর একাধিক পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।










