নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরি) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে শফি আহমেদকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে শোডাউন করেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সেই শোডাউনে স্থানীয় পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে নেতাকর্মীদের।
বৃহস্পতিবার সকালে মদনে শফি আহমেদের পক্ষে হাজার খানেক নেতাকর্মীরা উপজেলার ওয়াজেদ মার্কেটের সামনে শোডাউনের প্রস্তুতি নেয়। এ সময় শোডাউন ঠেকাতে নেত্রকোনা থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও পাঠানো হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের বারবার বলা হয়, পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে সমাবেশ কিংবা শোডাউন করতে। এক পর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে শোডাউন সংক্ষিপ্ত করতে বলা হয়। নেতাকর্মীরা শোডাউন সংক্ষিপ্ত না করলে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশি বাধার ছবি তুলতে গেলে তাতেও বাধা দেয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা ৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমার নেতাকর্মীদের যখন ওসি-এসপির সঙ্গে কথা বলতে বলে তখন আমি ওসির সঙ্গে কথা বলি, আমি তাকে বলি আমি কেন এসপির সঙ্গে কথা বলব এটা নিয়মতান্ত্রিক একটা রাজনৈতিক আন্দোলন আর এটা এমনটা নয় যে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন। এটা দলের প্রার্থী পরিবর্তনের আন্দোলন।
৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের অন্যতম নেতা শফি আহমেদ বলেন, আমি দলের নেতাকর্মীদের বলেছি কোনো পাবলিক প্রোপার্টি যেন নষ্ট না হয়, জানমালের যেন ক্ষতি না হয়, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা যেন না হয়।
শোডাউনে পুলিশি বাধার ব্যাপারে তিনি বলেন, পুলিশের এই আচরণটা অগণতান্ত্রিক ও নিন্দনীয়। শোডাউনে বাধা দেয়ার পর নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমি তাদেরকে বলেছি পুলিশের সঙ্গে কোন প্রকার বাকবিতণ্ডা না করতে। পরে পুলিশের সঙ্গে আমার কথা হয় আমি তাদের এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে না করি।
তৃণমূলের নেতা ও কর্মীরা জানান, শফি আহমেদকে মনোনয়ন দিলে আসনটিতে আওয়ামী লীগের পক্ষে জয়লাভ করা অনেক সহজ হবে। এছাড়া আসনটি হাতছাড়া হতে পারে। কারণ দীর্ঘ ১২ বছরেরও অধিক সময় ধরে এলাকায় দলকে সংগঠিত করেছেন শফি আহমেদ। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাবরের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে দলের নেতা কর্মীদের সাহস যুগিয়েছেন তিনি।
এর আগে বুধবার দুপুরে নেত্রকোনা পৌরসভার সামনের সড়কে রেবেকা মোমিনের আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক ছাত্রনেতা শফি আহমেদের সমর্থকরা। মানববন্ধন শেষে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।
পরে বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা শফি আহমেদের পক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উল ইসলামের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে তার সমর্থকেরা।
আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া রেবেকা মমিন নেত্রকোনা-৪ আসনের দুই বারের সংসদ সদস্য, যদিও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
তিনি বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার খাদ্য প্রতিমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোস্তাকের মন্ত্রিপরিষদের কৃষি ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল মমিনের সহধর্মিণী।









