ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা সংসদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের মুখ্য নেতা অভিজিৎ দীপককে দিল্লি পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে দলের প্রতিনিধিরা ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার কাছে হলফনামা জমা দেন।
সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ দাস জানান, দলের মুখ্য নেতা অভিজিৎ দীপককে দিল্লি পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া সোনাম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর সঙ্গেও পুলিশ অসদাচরণ করেছে।
রোববার (১৯ জুলাই) রাত থেকেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আন্দোলনকারীরা দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করেন। ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন (বাদল) অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা সংসদ ভবনের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন।
পথে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের একাধিক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধ্য দিল্লির কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের কাছাকাছি রেল ভবন পর্যন্ত পৌঁছে গেলে সশস্ত্র কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, কর্মী ও পরিবেশবিষয়ক আন্দোলনকারী সোনাম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।
এদিকে দুপুর ১২টার দিকে সৌরভ দাস এক্সে জানান, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তারা জেপি নাড্ডার কাছে একটি হলফনামা জমা দিয়েছেন।
সম্প্রতি ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, এই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২১ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে দলটি। তাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশনে বসেন সোনাম ওয়াংচুক।







