বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ (২০ জুলাই) সোমবার সকালে শুরু হওয়া এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে দুদকের মুখপাত্র তানজীর আহমেদ জানান, জব্দ করা সম্পদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। অভিযানে বাড়িতে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর আগে, গত ২৪ এপ্রিল আদালত জিয়াউল আহসানের নামে থাকা বাড়ি, জমি জব্দ এবং ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।
দুদকের মামলার এজাহার অনুযায়ী, জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের নামে প্রায় ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। পরে এসব অর্থ তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্তে নুসরাত জাহানের নামে থাকা আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে দুদক। এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, জিয়াউল আহসান অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিনিয়োগ করেছেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের নামে রূপগঞ্জে একটি আটতলা বাড়ি রয়েছে। এছাড়া বরিশালে একটি বাগানবাড়ি, একটি একতলা বাড়ি ও নির্মাণাধীন আরেকটি আটতলা ভবন রয়েছে। ঢাকার মিরপুর ও উত্তরায় তার নামে আরও তিনটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকার নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। পরে গত ৭ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।







