বাংলাদেশে সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ব্যাপী বৈঠকে করেছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয়ে বৈঠকটি শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টার দিকে।
বৈঠকে আগামী নির্বাচনে বিএনপির সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা হয়। প্রতিনিধি দল বিএনপির প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চায় এবং বিএনপি তাদের প্রস্তুতি বিষয়ে ইইউ প্রতিনিধি দলের কাছে ব্রিফ করে বলে জানা গেছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ডেভিড নোয়েল ওয়ার্ড, ইটনি মারিয়া গৌনার, ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিংক এবং সহকারী রাষ্ট্রদূত।
বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দীন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুইজন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মঙ্গলবার ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অাসেন।
তারা নির্বাচনের আগে ও পরে বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
ইতোমধ্যে বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই সদস্যের ওই বিশেষজ্ঞ দল সাক্ষাত করেছেন। আজ সকালে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন।
তারা দেশের এই বড় দুই দলের সাথেই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার বিষয়ে কথা বলছেন।
গতকাল ইসির সাথে বৈঠকের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিংটির জানিয়েছেন, এবার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাবে না৷ তাদের পরিবর্তে ঢাকায় আসা এই দুই পর্যবেক্ষক সার্বিক পরিস্থিতিতে নজর রেখে প্রতিবেদন দেবেন।
পর্যবেক্ষক না পাঠানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যেখানে নির্বাচনে সহিংসতা, কারচুপি ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেখানেই ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকে। পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে হলে কমপক্ষে ছয় মাস আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করতে হয়। তাছাড়া ইইউর অন্য অংশীদার দেশগুলোতেও নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর চাপ রয়েছে। আর ইইউ সদরদপ্তর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। ফলে যতগুলো দেশ থেকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুরোধ এসেছে, তার সবগুলো রাখা ইইউর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে “ইইউ থেকে একটি ২ সদস্যের নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ দল এসেছে। যার মাধ্যমে ইইউ বাংলাদেশের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে।
এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রত্যাশা করছে, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নিরপেক্ষ হবে। এটিও ইইউ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর কারণ।








