আবার ঢাকায় জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সম্মেলন। এবার ষড়ত্রিংশতম বার্ষিক অধিবেশন। রাজধানীর শাহবাগ কেন্দ্রীয় গণ গ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে শুক্রবার সকালে ‘সর্ব খর্বতারে দহে তব ত্রোধদাহ’ গানের সঙ্গে শুরু হলো তিন দিনের আয়োজন। এরপর প্রদীপ জ্বালিয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেন শিল্পী রফিকুন নবী।
জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি ড. সন্জীদা খাতুন বলেন: রবীন্দ্রনাথ বাঙালি জাতিকে বাঙালি হয়ে ওঠার পথ দেখিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িত চেতনায় জাতিকে একত্রিত করার পাশাপাশি তার গান, কথা, নৃত্য দিয়ে সম্মৃদ্ধ করেছেন। সেই চেতনাকে বহন করেই একে একে আমরা ষড়ত্রিংশতম বার্ষিক অধিবেশন আয়োজন করতে পেরেছি।
‘আমরা শুধু রবীন্দ্রনাথকেই নয়, বরং অনান্য গীতিকবি যেমন অতুল প্রসাদ সেন, দ্বীজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন, কাজী নজরুল ইসলামসহ যাদের লেখা আমাদের বাঙালি হয়ে উঠতে পথ দেখায়, তাদেরকেও এই সম্মেলনে যুক্ত রেখেছি।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা। এরপর শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল গান আর নাচ।
দুপুরের অধিবেশনের শুরুতেই ছিল ‘কিশোর বিভাগের চূড়ান্ত রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা’। দেশের ৭৫টি শাখা থেকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তুলে আনাদের মধ্য থেকে কিশোর বিভাগের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে অনুষ্ঠান। এরপর থাকবে রবিরশ্মি, আবৃত্তি, নৃত্য আর গান।

কাল শনিবার সকালে হবে ‘সাধারণ বিভাগের চূড়ান্ত রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা’। বিকেলে প্রতিনিধি সম্মেলনের পর হবে সেমিনার। বিষয় ‘সভ্যতার সংকট ও রবীন্দ্রনাথ’। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ভুূইয়া ইকবাল। এরপর সন্ধ্যায় হবে রবিরশ্মি, আবৃত্তি, নৃত্য আর গান।
পরশু রোববার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ। এরপর ফিরে এসে হবে প্রতিনিধি সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ। বিকেলে সমাপনী অধিবেশনে থাকবে কিশোর ও সাধারণ বিভাগের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় মানপ্রাপ্তদের সনদ ও পুরস্কার প্রদান, ‘রবীন্দ্র পদক’ প্রদান ও গুণীজন সম্মাননা জ্ঞাপন। প্রধান অতিথি থাকবেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সন্ধ্যায় থাকবে আবৃত্তি, নৃত্য আর গান। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিন দিনের আয়োজন।
আলোকচিত্রী : ওবায়দুল হক তুহিন










