ইরানে যাত্রীবাহী ইউক্রেনীয় উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের ‘ন্যায়বিচার’ পাইয়ে দেয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। জবাব পাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রচেষ্টা না থামানোর ঘোষণাও দিলেন তিনি।
কানাডার আলবার্টা রাজ্যের এডমন্টনে আয়োজিত এক স্মরণসভায় স্থানীয় সময় রোববার রাতে তিনি এ কথা বলেন।
গত ৮ জানুয়ারি ইরানের তেহরানে ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরের কাছে ১৭৬ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে ইউক্রেনের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। বিমানবন্দর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উদ্দেশে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ১৮০ জন ধারণক্ষমতা বিশিষ্ট বোয়িং ৭৩৭-৮০০ জেট উড়োজাহাজটি তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে পারান্দের কাছে বিধ্বস্ত হয়।
এ ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা সবাই নিহত হন। নিহতদের ৫৭ জনই কানাডার নাগরিক।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা দুর্ঘটনার জন্য ইরানের ভুলে ছোড়া রকেট বা মিসাইলকে দায়ী করে আসলেও এ পর্যন্ত বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল দেশটি।
তবে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক রকেট হামলা চালানোর ওই সময়টাতে ‘ভুল করে’ দুর্ঘটনা ঘটানোর কথা স্বীকার করে ইরান।

এ বিষয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং দুর্ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি চেয়ে রোববার রাতে এডমন্টনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যায়ামাগারে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সভায় অংশ নেয়া প্রায় আড়াই হাজার মানুষের সবাই ফুল দিয়ে এবং রাত জেগে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
ওই সভায় ট্রুডো বলেন, ‘এই ট্র্যাজেডি ঘটারই কথা ছিল না, এবং আমি নিশ্চিত করছি যে এই অসম্ভব কঠিন সময়টাতে আপনারা আমার পূর্ণ সমর্থন পাবেন… আপনারা আমাদেরকে আপনাদের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা আদায় করার প্রত্যয় দিলেন।’
‘যতক্ষণ না এর কোনো জবাব পাচ্ছি ততক্ষণ আমরা শান্ত হবো না,’ বলেন তিনি।

কানাডায় এই শোকসভা চলার সময়টাতে ইরানেও চলছে একই অভিযোগে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ। উড্ডয়নের কিছু পরই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়া নিয়ে ইরানি শাসকরা ‘মিথ্যাচার’ করায় তাদের সমালোচনা করে রাজধানী তেহরানসহ কয়েকটি শহরে শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্য পদস্থ নেতাদের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছোড়ার খবরও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।








