২০ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
মঙ্গলবার ১৯ মে বেলা ১১টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, তারা টানা ২০ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত টিউশন ফি, সেশন চার্জ, পরীক্ষার ফিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না। এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ কর্তন করেও ব্যাংকে জমা না দেওয়া, কল্যাণ তহবিল ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষকরা আরও অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানে ১৪২ জন শিক্ষক ও ২৭ জন কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিনিয়র শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন, শোকজ ও চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। মানববন্ধনকারীরা বলেন, ২০২১ সালের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, শিক্ষার্থী সংখ্যা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় অবনতি শুরু হয়েছে। একসময় শিক্ষার মান ও ফলাফলে সুনাম থাকা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে বলেও তারা উদ্বেগ জানান।
এদিকে, মানববন্ধনের আগাম খবর পেয়ে কোনো সরকারি ছুটি ঘোষণা ছাড়াই অনিবার্য কারণ দেখিয়ে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের ভাষ্য, এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে পাঠদানে পিছিয়ে পড়েছে এবং অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মানববন্ধন থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

