আইনি লড়াই জিতে শেষ পর্যন্ত নিজ দায়িত্বে জীবনযাপনে অস্বীকৃতি জানানো ৩০ বছর বয়সী ছেলেকে ঘর থেকে বের করতে পারছেন নিউইয়র্কের এক বয়স্ক দম্পতি।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিরাকাসে সর্বোচ্চ আদালতে হওয়া শুনানিতে বুধবার বিচারপতি ডোনাল্ড গ্রিনউড ৩০ বছর বয়সী মাইকেল রোটন্ডোর আইন নিয়ে ভালোভাবে গবেষণা করে নিজের মামলা লড়ার বিষয়টিকে প্রশংসা করেন। কিন্তু এরপরও তাকে বাবা-মায়ের বাড়ি ছেড়ে যেতে হবে বলে আদেশ দেন তিনি।
ছেলে মাইকেল এই আদেশের পর বাবা-মায়ের বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য আরও ছয় মাস সময় চাইলে আদালত এই আবেদনকে ‘সাংঘাতিক’ বলে মন্তব্য করেন।
জবাবে মাইকেল বলেন, আদালতের আদেশটাই সাংঘাতিক।
‘আমি বুঝি না তারা কেন আমাকে, মানে, বাড়ি ছাড়ার জন্য আরেকটু সময় দিতে রাজি নন?’ বলেন মাইকেল। তার যুক্তি, এত বছর অন্যদের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা একজন মানুষের জন্য ঘর ছাড়তে ছয় মাস সময় পাওয়াটা খুবই যৌক্তিক।
জবাবে মুচকি হেসে বিচারপতি গ্রিনউড তাকে বাবা-মায়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বলেন এবং স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে নিজের দায়িত্ব নিয়ে অন্য কোথাও উঠতে নির্দেশ দেন। ‘আমি চাই তুমি ওই বাড়িটা ছেড়ে দেবে।’
পুরোটা সময় মাইকেলের বাবা মার্ক ও মা ক্রিস্টিনা রোটন্ডো হতাশ দৃষ্টিতে মাইকেলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
পশ্চিমা বিশ্বে ছেলেমেয়ের বয়স ১৮ বছর হয়ে গেলেই তাকে পূর্ণবয়স্ক ধরে নিয়ে তাকে নিজের দায়িত্ব নিতে উৎসাহ দেন অভিভাবক। সন্তানরাও সোৎসাহে বাবা-মায়ের সংসার ছেড়ে কোনো না কোনো কাজ নিয়ে বা উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের উদ্দেশ্যে অন্য কোথাও বসবাসের জন্য চলে যায়।

গত সপ্তাহে আদালতে জমা দেয়া দলিলপত্রেও ক্রিস্টিনা ও মার্ক জানান, ৩০ বছর হয়ে গেলেও তাদের ছেলে মাইকেল এখনো বাবা-মায়ের ওপরই নির্ভরশীল। তাই তাকে বাসা ছেড়ে দিতে বহুবার বোঝানোর পরও কাজ না হওয়ায় চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে কয়েকবার আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তারা।
‘তোমার মতো যাদের কাজের অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে, তাদের জন্যও করার মতো অনেক চাকরি আছে। এমনই একটা চাকরি যোগাড় করো – তোমাকে কাজ করতে হবে!’ ১৮ ফেব্রুয়ারির নোটিশের সঙ্গে ছেলেকে দেয়া বার্তায় বলেছিলেন রোটন্ডো দম্পতি।
আরেকটি চিঠি অনুসারে, তারা মাইকেলকে এক হাজার মার্কিন ডলারও দিয়েছিলেন, যেন তিনি বাসা ছেড়ে দেন।
কিন্তু তবুও আলাদা হননি মাইকেল।
আট বছর আগে যখন চাকরি হারিয়েছিলেন, তখন বাবামা বলেছিলেন তাদের সঙ্গে থাকতে পারেন মাইকেল। সিবিসি নিউজকে তিনি জানান, টাকাটা কোনো একসময় ফেরত দেয়ার পরিকল্পনাও ছিল তার।










