চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কাজে ফিরেছি বলে ইন্ডাস্ট্রির শত পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে: শাকিব

সাক্ষাৎকার:

‘ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে অশ্লীলযুগ’

মহামারী করোনার প্রভাবে স্থবিরতা কাটিয়ে ‘নিউ নরমাল’ জীবনে ফিরছে পৃথিবী। আশঙ্কা থাকলেও জীবনের তাগিদে কাজে ফিরছে মানুষ। শোবিজ অঙ্গনেও নয় ব্যতিক্রম। ২২৪ দিন পর শুটিংয়ে ফিরেছেন ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে বড় তারকা শাকিব খান। অনন্য মামুনের পরিচালনায় ‘নবাব এলএলবি’ নামের ছবির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে দাঁড়িয়েছেন ক্যামেরার সামনে। এদিন ‘নিউ নরমাল লাইফ’-এ শুটিং অভিজ্ঞতা, দেশের সিনেমা নিয়ে পরিকল্পনার কথা নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের মুখোমুখি এই তারকা অভিনেতা:

করোনার মধ্যেও কী ভাবনা থেকে শুটিংয়ে ফিরলেন?
আমার এতো বছরের ক্যারিয়ারে এমন প্যান্ডামিক আগে কখনও আসেনি। অনেকেই কাজে ফিরতে নিরুৎসাহিত করছিলেন। কিন্তু দেখলাম, আমার কারণে অনেকের উপার্জন বন্ধ হয়ে আছে। ঘরে বসে থাকলে আমি হয়তো সার্ভাইব করতে পারবো; কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির আশপাশের মানুষগুলো তো পারবে না! তাছাড়া বিশ কোটি মানুষের দেশের এই ইন্ডাস্ট্রি যেহেতু আমার কাঁধে, তাই আমাকেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্যান্ডামিক সময়ে কাজে ফেরার শুরু আমাকেই আগে করতে হবে। আমার বিশ্বাস, শিগগির অন্যরাও সাহস করে ভালো ভালো সিনেমা নিয়ে আবার কাজে ফিরবে।

বিজ্ঞাপন

শুটিংয়ে করোনা নিয়ে ভয়ভীতি কাজ করছে?
যতটা সাবধান হয়ে শুটিং করা যায়, আমরা তাই করছি। আর মহামারীর ভয়ভীতির চেয়ে এখন অনেকের সার্ভাইব করা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুটিংয়ের সাথে জড়িত শত মানুষ কাজ করে সার্ভাইব করতে চায়। আমি কাজে ফিরলে তাদের উপার্জন হবে। পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে। তারা ভালো থাকলে আমার ভালো লাগবে।

ইন্ডাস্ট্রি যাদের উপর ভরসা করে, তারা যখন বিরতি ভেঙে কাজে ফেরেন তখন নানামাত্রিক পরিকল্পনা থাকে নিশ্চয়? ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আপনি কী কী পরিকল্পনা এঁকেছেন?
ইন্ডাস্ট্রিকে এখন সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার চেয়ে আবার সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাওয়াই হবে মূল পরিকল্পনা। অকাজের মানুষদের এড়িয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। পাঁচ কেজি চাল-ডাল-তেল-আলুর সাহায্য নয়, আমার পরিকল্পনা ওই মানুষগুলোর কাজ নিশ্চিত হোক। প্রকৃতভাবে খারাপ অবস্থায় থাকা মানুষগুলো সাহায্য চায় না, তারা নিয়মিত কাজ চায়। সাহায্য নেয়ার সময় লাইনে দাঁড়ানো মানুষগুলোর মধ্যে পরিচিত শিল্পী, টেকনিশিয়ানদের মুখ দেখা যায় না। তারা আত্মসম্মান নিয়ে থাকে।

ইন্ডাস্ট্রির দুঃসময়ে কাজ দিয়ে সবাইকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এই প্রতিনিধিত্ব করাটা নিজের কাছে কেমন লাগে?
অতীতের অনেকের ক্যারিয়ার গ্রাফ ঘাটলে দেখা যাবে, তারা অনেকেটা সোনার চামচ মুখে দিয়ে কাজ করেছেন। রাজ্জাক আঙ্কেল ভালো ও গুণী পরিচালক পেয়েছেন। তার সময়ে মুহূর্তেই ১০-১৫ জন স্বনামধন্য পরিচালকদের নাম বলা যায়। সালমান ভাই তার সময়ে পরিচালকদের সঙ্গে ভালো ভালো প্রযোজক পেয়েছেন। তখন ১০ টার বেশি বড় বড় প্রোডাকশন হাউজ ছিল। তারা এতোটাই পেশাদারভাবে সিনেমা প্রযোজনা করতেন যে, ৯ থেকে ৫ টা পর্যন্ত সিনেমা নিয়ে অফিস করতেন। কিন্তু আমি ও আমার সময়ে যারা কাজ শুরু করলেন, তাদের ক্ষেত্রে ঘটলো পুরো উল্টো। অশ্লীলতা গ্রাস করলো। ভালো পরিচালক, প্রযোজকরা সিনেমা বিমুখ হতে শুরু করলেন। ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে অশ্লীলযুগ। এখন পাঁচটা ভালো প্রোডাকশন হাউজ নেই, যেখানে থেকে বড় বড় ছবি নির্মাণ হয়। এসবের মধ্যেও কাজ করে যাচ্ছি, যখনই টেনে তুলি তখন একের পর এক সমস্যা আসে। ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নেয়া প্রচেষ্টা আমার সবসময় অব্যহাত থাকবে। আমি জানি, যতদিন চেষ্টা করে যাবো আমার পথ আগলে দেয়া হবে, তবু আমি চেষ্টা করে যাবো।

ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিতে সংগঠনের প্রয়োজন অনুভব করেন না?
রাজ্জাক, ফারুক, আলমগির, শাবানা, ববিতা, কবরীদের মতো কিংবদন্তীদের সংগঠন করার প্রয়োজন হয়নি। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের আসল কাজ দিয়ে নিজেরা একেকটা সংগঠনের মতো হয়েছেন। আমি জানি না অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খানরা কোন সংগঠনের সভাপতি সেক্রেটারি কিনা! কিছু মানুষের মূল্যায়ন হয় সবকিছুর উর্দ্ধে। আমাদের দেশেও যখন সঠিক মানুষকে সঠিক মূল্যায়ন করা হবে, আমরা সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাবো।

সিনেমা হল মালিকরা সরকারিভাবে সহায়তা পাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এই বিষয়ে কিছু বলার আছে কিনা?
সিনেমা হল মালিকদের টাকা দেয়া হবে শোনা যাচ্ছে। যদি হয় এটা খুব ভালো হবে। কিন্তু হল ঠিক করে দেয়ার পর সিনেমা না থাকলে তখন কী হবে? তাই যারা নিয়মিত ছবি বানায় বা আগে বানাতো এখন পারছেন না, তাদের দিকটাও বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজনে সহজ শর্তে কিছু দিতে হবে এবং সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করতে হবে।

ছবি: রিয়াজ