ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরগাঁওয়ে মাত্র এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে অফিসগুলোকে কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সুযোগ দিতে এবং স্কুলগুলোকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত গুরগাঁওয়ে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃষ্টিতে রাজীব চক, ইফকো চক, রেলওয়ে রোড, সেক্টর-৫, ওল্ড দিল্লি রোড, মেহরৌলি রোড ও বাসাই রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন সড়ক ডুবে যাওয়ায় অনেক চালক গাড়ি ফেলে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বেশি সময় বৃষ্টি হলেই শহরের নাগরিক অবকাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জলমগ্ন সড়কে যানবাহন আটকে রয়েছে। স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীদেরও পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। পানির নিচে থাকা খোলা ম্যানহোলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ উঁচু বাসস্ট্যান্ডসহ অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
বৃষ্টির কারণে দিল্লি-জয়পুর এক্সপ্রেসওয়েতেও যান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। প্রশস্ত এই সড়কেও হাজারো যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়।
যাত্রীদের ভাষ্য, সিগনেচার টাওয়ার থেকে হিরো হোন্ডা চক পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ১৫ মিনিটের পথ সোমবার পাড়ি দিতে অন্তত ৫০ মিনিট সময় লেগেছে।
সাইবার হাবের কাছে গেটওয়ে টাওয়ার মেট্রো স্টেশনের বিপরীত পাশে এক্সপ্রেসওয়ের বড় একটি অংশও পানিতে তলিয়ে যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়।
চলতি বর্ষা মৌসুমে গুরগাঁওয়ের অন্যতম জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত শীতলা মাতা রোডও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং অনলাইন ক্লাসের পরামর্শ শহরের নাগরিক অবকাঠামো ও বর্ষায় জলাবদ্ধতা মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।









