যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ ও নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফারস প্রদেশে বড় একটি গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, নতুন গ্যাসক্ষেত্রটিতে প্রায় ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বা ৭৩ শতাংশ গ্যাস উত্তোলনযোগ্য।
সোমবার (২৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তেল ও জ্বালানি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম অয়েলপ্রাইস।
ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসের পরিমাণ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি ব্লকের সমান। এই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত সরবরাহ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, নতুন আবিষ্কৃত গ্যাস ‘সুইট’ বা কম সালফারযুক্ত। ফলে গ্যাসক্ষেত্রটির উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কম হবে।
**হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাউথ পার্সে পুনরুদ্ধার চলছে**
ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সেও মেরামতের কাজ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সংঘাতের শুরুর দিকে গ্যাসক্ষেত্রটির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এরই মধ্যে সেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রটি ইরান ও কাতারের মধ্যে ভাগাভাগি করা। কাতারের অংশটি নর্থ ফিল্ড নামে পরিচিত। বিশাল এই গ্যাস মজুদের ওপর ভিত্তি করে কাতার বিশ্বের শীর্ষ তিন এলএনজি রপ্তানিকারকের একটি হয়ে উঠেছে।
গ্যাসক্ষেত্রটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, সাউথ পার্সের পুরো কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে। তবে বিকল্প পদ্ধতি ও দ্রুত পরিকল্পনার মাধ্যমে চলতি বছরের শেষ নাগাদ কয়েকটি ইউনিট পুনরায় চালু এবং দুই বছরের মধ্যে সামগ্রিক পুনর্গঠন শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
**নতুন গ্যাসের সন্ধানের সময়েই বাড়ছে মার্কিন চাপ**
ইরানে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার খবর এমন সময়ে এল, যখন তেহরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞাকে ‘কঠোর’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তেহরানের ওপর আরোপ করার মতো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা দেখার কথাও বলেছেন তিনি।
অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এ লেখা এক মতামত নিবন্ধে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ চালুর হুমকি দিয়েছেন। এটিকে কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের অধিকারী ইরান। নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নতুন এই গ্যাস মজুদ তেহরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।









