আন্তর্জাতিক

মহাকাশে আটকে থেকে ৯ মাস যা খেয়ে বেঁচে ছিলেন সুনিতা ও বুচ

নাসার মহাকাশ স্টেশনে দুইজন নভোচারী ছবি. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

নাসার মহাকাশ স্টেশনে দুইজন নভোচারী, ব্যাকগ্রাউন্ডে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

মহাকাশে আটকে পড়ার ৯ মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূল থেকে ৫০ মাইল দূরে সমুদ্রে নিরাপদে অবতরণ করেছে নভোচারী সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোরকে বহনকারী ক্যাপসুল। তবে দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকাটা ছিল চ্যালেঞ্জের।

বুধবার (১৯ মার্চ) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেসন আইএসএসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার ফলে তাদের শারীরিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে পেশি ও হাড়ক্ষয়, কিডনির সমস্যা এবং দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। নাসা এসব বিষয়ে সতর্ক নজর রেখেছিল এবং তাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল।

মহাকাশে যা খেতেন সুনিতা ও বুচ

মহাকাশে থাকাকালীন সুনিতা ও বুচের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অনেকের কৌতূহল রয়েছে। গত বছরের ১৮ নভেম্বর নিউইয়র্ক পোস্টের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইএসএসে থাকা নভোচারীরা পিৎজা, রোস্ট করা মুরগির মাংস, চিংড়ির ককটেল, টুনা মাছ, সিরিয়াল, গুঁড়া দুধ, স্যুপ, স্টু এবং ক্যাসেরোলের মতো খাবার খেতেন।

তবে এসব খাবার মূলত প্যাকেটজাত বা হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। তাজা ফল ও সবজি প্রাথমিকভাবে থাকলেও তিন মাসের মধ্যেই তা ফুরিয়ে যায়। আইএসএসে নভোচারীদের জন্য সংরক্ষিত খাবার গরম করে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

মহাকাশে আটকা থেকে ৯ মাস যা খেয়ে বেঁচে ছিলেন সুনিতা ও বুচ. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

খাবারের পর্যাপ্ত সরবরাহ

এ ছাড়া স্টেশনে পানির চাহিদা মেটানোর জন্য নভোচারীদের প্রস্রাব ও ঘাম পুনর্ব্যবহার করে সুপেয় পানিতে রূপান্তর করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, আইএসএসে পুষ্টিকর খাবারের কোনো অভাব নেই। এমনকি কোনো অভিযান বিলম্বিত হলেও নভোচারীদের খাবারের ঘাটতি হবে না। প্রত্যেক নভোচারীর জন্য দৈনিক প্রায় সাড়ে ৩ পাউন্ড খাবার মজুত রাখা হয়।

গত বছরের জুন মাসে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) একটি স্বল্পমেয়াদি মিশনে গিয়েছিলেন তারা, কিন্তু বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানে ত্রুটির কারণে তাদের ফিরে আসা বিলম্বিত হয়। অবশেষে নাসা ও স্পেসএক্সের যৌথ উদ্যোগে গত শুক্রবার একটি উদ্ধার মিশন পাঠানো হয়, যা সফলভাবে তাদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে।

সুনিতা ও বুচের ফিরে আসার মিশনটি ‘ক্রু-১০’ নামে পরিচিত ছিল। এই মিশনে নতুন চারজন নভোচারী আইএসএসে পৌঁছান এবং পরে সুনিতা, বুচসহ আরও দুই নভোচারী—যুক্তরাষ্ট্রের নিকোলাস হেগ ও রাশিয়ার আলেকজান্ডার গর্বুনভ পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

সুনিতা উইলিয়ামস (৫৯) এবং বুচ উইলমোর (৬২) উভয়েই মার্কিন নৌবাহিনীর পরীক্ষামূলক পাইলট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন, পরে নাসায় যোগ দেন।

বিষয়:বুচ উইলমোর সুনিতা উইলিয়ামস

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…