বাংলাদেশ

ওয়াটারএইডের ৪০ বছর পূর্তিতে ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ প্রদর্শনী

ওয়াটারএইডের ৪০ বছর পূর্তিতে ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ প্রদর্শনী

নিরাপদ পানি, সম্মানজনক স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস প্রসারে বাংলাদেশে চার দশকের পথচলা উদ্‌যাপন করছে ওয়াটারএইড। এ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশে (আইএবি) শুরু হয়েছে ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। এতে মানুষের জীবন বদলের গল্প নিয়ে স্থান পেয়েছে ৪০টি আলোকচিত্র।

শুক্রবার প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ওয়াটারএইডের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হাসিন জাহান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী। এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সহযোগী ও দাতা সংস্থার সদস্য, সাবেক কর্মী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।

আলোকচিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি রয়েছে সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের প্রদর্শন, চলচ্চিত্র, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি ট্যুর ও অডিওভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মানুষের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও জীবনযাত্রায় কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, তা তুলে ধরা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসিন জাহান বলেন, বাংলাদেশে ওয়াটারএইডের ৪০ বছরের পথচলা জনগোষ্ঠী, সহকর্মী, সহযোগী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতামত ও নেতৃত্ব সংস্থাটির কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে। এই অর্জনকে সামনে রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ুসহিষ্ণু ভবিষ্যৎ গড়া এবং সবার পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে ওয়াটারএইড। এরপর থেকে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি। সেবাবঞ্চিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া, প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো এবং নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ুসহিষ্ণু সমাধান প্রসারেও কাজ করছে তারা।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, চার দশকের এই পথচলা নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনা এবং সেবাব্যবস্থা শক্তিশালী করার গল্প। নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব সংস্থাটির কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে। সবার জন্য, সবখানে নিরাপদ ও টেকসই সেবা নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ওয়াটারএইডের ৪০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে

আয়োজকদের মতে, প্রদর্শনীর আলোকচিত্রগুলোতে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে মানুষের জীবনে আসা পরিবর্তনের পাশাপাশি এখনো সেবাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী দিনের কর্মসূচিতে সহযোগী সংস্থা ও সাবেক কর্মীদের নিয়ে বিশেষ পর্ব, তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে জেন্ডার সমতাবিষয়ক উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পথচলায় যুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্মিলন, স্মৃতিচারণ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রদর্শনীটি আগামীকাল শনিবার, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে প্রদর্শনী ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ।

বিষয়:আলোকচিত্র প্রদর্শনী ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ওয়াটারএইডের ৪০ বছর পূর্তি জলবায়ু পরিবর্তন নিরাপদ পানি পানি ও স্যানিটেশন

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…