বর্জ্য অপসারণই এখন ডিএসসিসির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও বর্তমানে দ্রুত বর্জ্য অপসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (১৬ জুন) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঈদ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক জানান, সংস্থাটির ৪ হাজার ৯৫০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নগর পরিচ্ছন্ন রাখার সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব পালন করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। নাগরিকদের সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজধানীর দৃশ্যমান পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন।
গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক টেন্ডারের মাধ্যমে পরিচালিত বর্তমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী বছর বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে নাগরিকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঈদুল আজহায় স্বল্প সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণের কারণে এবার নগরবাসী দুর্গন্ধজনিত ভোগান্তি থেকে অনেকটাই মুক্ত ছিল, যা সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মো. আবদুস সালাম। তিনি জানান, তাদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এছাড়া ইতোমধ্যে এক হাজার কর্মীকে হেলথ কার্ড দেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ছয় হাজারে উন্নীত করা হবে। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সন্তান যেন উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়েও সিটি কর্পোরেশন সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; নাগরিকদেরও এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই রাজধানীকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





