‘সমালোচনার বিরুদ্ধে লড়াই করে বড় হয়েছি’

লুইস সুয়ারেজ
উরুগুয়ের ইতিহাসে অন্যতম সেরা আক্রমণ তারকার একজন লুইস সুয়ারেজ। মাঠ মাতিয়েছেন ইয়োরোপীয় ক্লাব লিভারপুল, বার্সেলোনা, আটলেটিকো মাদ্রিদ এবং আয়াক্সের হয়ে। লিওনেল মেসির সতীর্থ হয়ে এখন আছেন ইন্টার মিয়ামিতে। খেলেছেন উরুগুয়ের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে। খেলোয়াড়ি জীবনের বাইরে ব্যক্তিজীবনেও মুখোমুখি হয়েছেন নানা সমালোচনার। সেসবেরও প্রধান কারণ ছিল ফুটবলই।
স্প্যানিশ গণমাধ্যমকে সুয়ারেজ বলেছেন, ছোট থেকে লড়েছেন প্রতিকূলতার সঙ্গে। যে ক্লাবে গিয়েছেন, শুনতে হয়েছে শারীরিক গঠন কিংবা পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা। এখনও সম্মুখীন হচ্ছেন এসবের।
‘সবসময় সমালোচনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। ১৮ বছর বয়সে ন্যাসিওনালের হয়ে অভিষেক। সেসময় তারা গোল মিস করার জন্য আমার সমালোচনা করতেন। তখন সেই সমালোচনাগুলো উল্টে দেয়ার চেষ্টা শুরু করি। তারপর যখন নেদারল্যান্ডসে যাই, আয়াক্সে খেলি, তারা আমাকে মোটা বলতেন।’
‘লিভারপুলে আমাকে সামান্য শৃঙ্খলাহীনতার জন্য আক্রমণ করে। বার্সেলোনায় আমার ছোট ছোট বিষয় নিয়ে সমালোচনা করা হতো। সেখানে আমার খারাপ সময় যায়। আমার ক্যারিয়ারের প্রতিটি পর্যায়ে, এ জিনিসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি।’
‘সমালোচনার বিরুদ্ধে লড়াই করে বড় হয়েছি। মাঝে মাঝে সংগ্রামের উদাহরণ হতে পারি। আবার অনেক সময় মনে হয়, এমন অনেক বিষয় আছে যেখানে উদাহরণ নই।’
৩৮ বর্ষী স্ট্রাইকার জানালেন শৈশব ছিল বেশ কঠিন, ‘ছোট থেকেই অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছি। আমার কাছে পর্যাপ্ত খাবার ছিল না এবং আমাকে সবসময় বাইরে গিয়ে নিজের এবং পরিবারের জন্য খাবার খুঁজতে হতো। আমার বিবেক বলে, সবসময় সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমার কাছে কখনও সহজ কিছু ছিল না।’
সুয়ারেজের কাছে মেজর লিগ সকার প্রত্যাশার চেয়ে অনেকবেশি কঠিন মনে হচ্ছে। তবে পরিবেশ আগের মতো প্রতিকূল নয়। ২০২৪ মৌসুমের আগে মিয়ামিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেসময় পান সাবেক সতীর্থ মেসি, জর্ডি আলবা, সার্জিও বুস্কেটসকে।
বলেছেন, ‘আসলে আমি এখানে এতো ভ্রমণ এবং ম্যাচ দেখে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। এর কারণ অবশ্য, আমরা কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগস কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছি। ক্লাবের ইতিহাসে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছি। এর অর্থ অনেক ভ্রমণ। ভ্রমণগুলো দীর্ঘ, কমপক্ষে দুঘণ্টা বিমানের সময়, তবে আমরা এতে অভ্যস্ত ছিলাম।’
‘এখানে আমার কোন অভিযোগ নেই, বরং আমার যা বাকি আছে তা উপভোগ করার চেষ্টা করছি। মাঝে মাঝে মনে হয় মানুষ আমাদের অবমূল্যায়ন করে, কিন্তু যখন প্রতিযোগিতার কথা আসে, ফলাফল নিজেই কথা বলে। ম্যাচ জেতা সহজ নয়। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।’
সুয়ারেজ বার্সার হয়ে ২৮৩ ম্যাচে গোল করেছেন ১৯৫টি। আয়াক্সে ১৫৯ ম্যাচে ১১১টি, লিভারপুলে ১৩৩ ম্যাচে ৮২টি এবং অ্যাটলেটিকোর হয়ে ৮৩ ম্যাচে গোল করেছেন ৩৪টি। মিয়ামির হয়ে ৮৫ ম্যাচে এপর্যন্ত গোল ৪২টি। জাতীয় দল জার্সিতে খেলেছেন ১৪৩ ম্যাচ, গোল ৬৯টি। বার্সার হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ঝুলিতে আছে ৫টি লা লিগা, যার মধ্যে একটি অ্যাটলেটিকো ও ৪টি বার্সার হয়ে। উরুগুয়ের হয়ে জিতেছেন একটি কোপা আমেরিকা। বার্সার হয়ে জিতেছেন ক্লাব বিশ্বকাপ ও লিভারপুলের হয়ে ইংলিশ লিগ কাপ।





