আন্তর্জাতিক

ইরানে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, আগুন নিয়ে না খেলতে বলল তেহরান

ইরানে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, আগুন নিয়ে না খেলতে বলল তেহরান

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটিতে আবারও সামরিক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ হামলাকে তিনি ‘ছোট আকারের এপিক ফিউরি’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক দূত চলতি সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আগুন নিয়ে না খেলতে’ সতর্ক করেছে তেহরান।

এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়, ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান পার্টির এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় না আসে, তাহলে দেশটিতে আবারও হামলা চালানো হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা আরেকটি ছোট আকারের এপিক ফিউরি অভিযান চালাতে পারি, অথবা তারা সমঝোতায় আসতে পারে। তারা বুদ্ধিমান হলে বলবে, চলুন, আলোচনায় বসি।’

তবে নতুন করে হামলা এড়াতে ইরানকে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি ট্রাম্প।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এ অভিযানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ কয়েক মাস ধরে চলছে। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

বক্তব্যে ট্রাম্প ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামের আগের সামরিক অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই অভিযানে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে এবং দেশটির সামরিক শক্তি ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামারের মাধ্যমে আমরা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করেছি। সামরিক, আর্থিকসহ বিভিন্ন দিক থেকে আমরা তাদের পরাজিত করেছি। এখন আমরা নিশ্চিত করছি, কাজটি সম্পূর্ণ হয়েছে।’

চলতি সপ্তাহান্তেই হামলার সম্ভাবনা

ট্রাম্পের এ বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক ইরানে চলতি সপ্তাহান্তেই হামলা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।

মারিও নওফালের সঙ্গে এক পডকাস্টে ব্যারাক বলেন, ‘এই সপ্তাহান্তে হামলা হতে পারে কি? অবশ্যই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী এবং আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আমরা মাসের পর মাস ধরে আলোচনার টেবিলে রয়েছি।’

তবে ইরানবিষয়ক আলোচনায় ব্যারাকের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই। তার মন্তব্যের বিষয়ে ট্রাম্প প্রথমে কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘ওই ব্যক্তি কি আমার রাষ্ট্রদূত? তিনি বেশ ক্ষমতাধর ব্যক্তি, মনে হয়। যদি এমন হয়, তাহলে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

শিগগিরই যুদ্ধ শেষ করার আশা ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডার একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, কোনো না কোনোভাবে এ যুদ্ধের অবসান হবে। সমঝোতার মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো উপায়ে।’

তবে যুদ্ধ শেষ করার কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট কিছু বলেননি।

ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। তার ভাষ্য, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো এ হুমকি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে ইরানে হামলা চালাতেই হতো, নইলে তারা পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত।’

যুক্তরাষ্ট্রকে আগুন নিয়ে না খেলার সতর্কবার্তা ইরানের

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও ইরানে হামলা চালালে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেব্‌ল লক্ষ্যবস্তু করার বিস্তারিত পরিকল্পনা করছে তেহরান।

ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার পর এসব কেব্‌ল মেরামতের কাজ বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যও রয়েছে তাদের। এতে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানে হামলা হলে আর কোনো সীমারেখা থাকবে না। সমুদ্রতলের কেব্‌ল থেকে শুরু করে সামরিক ঘাঁটি, এমনকি গোপন ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আগুন নিয়ে খেলা উচিত নয়।’

মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, দেশটির কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা বাড়িয়েছে ইরান। এসব পরিকল্পনার কয়েকটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে বলেও গোয়েন্দা মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব থেকে কূটনীতিকদের একটি অংশ সরিয়ে নিয়েছে ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীসংখ্যাও কমানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন গত ২৩ অক্টোবর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এক পৃষ্ঠার একটি অশ্রেণিবদ্ধ স্মারকলিপিতে এ বিষয়ে সতর্ক করেন।

তবে ওই স্মারকলিপিতে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কোনো দেশের নাম কিংবা পরিকল্পনাগুলোর ধরন উল্লেখ করা হয়নি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস এবং জেদ্দা ও ধাহরানের কনস্যুলেট থেকে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন, কাতার ও জর্ডানে মার্কিন দূতাবাসগুলোর কর্মীসংখ্যাও কমানো হয়। কূটনীতিকদের কেউ কেউ এ প্রক্রিয়াকে ‘বিশৃঙ্খল’ বলে বর্ণনা করেছেন।

বিষয়:ইরান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র হামলা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…