মায়ের দেওয়া উপহারের বন্দুক দিয়েই ৪ জনকে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিন শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছে। হামলায় জড়িত ১৬ বছর বয়সী কিশোর গ্রিফিন জে. জন দ্বিতীয় তার মায়ের কাছ থেকে জন্মদিনের উপহার হিসেবে পাওয়া বন্দুক দিয়ে এ হামলা চালিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশোরটির মা শনতাই নিকারসন ২০২৬ সালের আগস্টে আইনগতভাবে একটি ম্যাভেরিক ৮৮ পাম্প-অ্যাকশন ১২-গেজ শটগান কেনেন। পরে বিনোদনমূলক ব্যবহারের জন্য ছেলেকে সেটি উপহার দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। একসময় ওই বিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করেছিল গ্রিফিন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে প্রবেশের আগে একটি চলন্ত পিকআপ ট্রাক লক্ষ্য করে গুলি চালায় কিশোরটি। ট্রাকটির চালকই প্রথম জরুরি সেবায় ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে বিদ্যালয়ের তালাবদ্ধ কাচের দরজায় গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে সে। দরজার বাঁ দিকে থাকা প্রথম শ্রেণিকক্ষে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত তিন শিশুর মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী রোয়াম সামারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। নিহত অন্য দুই শিশুর বয়স ছিল আট ও ১১ বছর। এ ছাড়া ২৫ বছর বয়সী শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্টও হামলায় নিহত হন। আহতদের মধ্যে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রী এবং ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ওই শ্রেণিকক্ষে পাঁচ শিশু ও চার প্রাপ্তবয়স্কসহ মোট নয়জন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে আসেন ৩৬ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা কায়লুব জিয়ামানকো। তার দুই মেয়েও ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পিকআপ ট্রাকে গুলি চালানোর ঘটনা দেখে তিনি কিশোরটির পিছু নেন এবং বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে এক শিক্ষক হামলাকারীর সঙ্গে অস্ত্রটি নিয়ে ধস্তাধস্তি করছিলেন। তখন সেখানে উপস্থিত জিয়ামানকো গুলি চালিয়ে কিশোরটিকে হত্যা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, নিহত এক শিশুর পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা, জরুরি পরিস্থিতিতে অনুসরণ করা নিয়মকানুন এবং কীভাবে একজন কিশোরের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছাল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে আইনজীবী নিয়োগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছানোর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।






