পাকিস্তানের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব নিয়ে সৃষ্টি হওয়া জটিলতা নিয়ে এবার সতর্কবার্তা দিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধৈর্যের পরীক্ষা না নেয়ার অনুরোধ করেন তারকা এ পেসার। সীমা অতিক্রম করলে তাকে ভিন্ন রূপে দেখা যাবে বলেও প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে রাখলেন।
শুক্রবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেন শাহিন আফ্রিদি। ২৯ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটিতে একটি সিংহের ছবি দৃশ্যমান হয়। নেপথ্যে ভেসে আসতে থাকে বিশেষ বার্তা বহন করা কথা।
‘কখনোই আমাকে অবস্থানে নেবেন না, যেখানে আপনাকে দেখাতে বাধ্য হই যে আমি কতটা নিষ্ঠুর এবং নির্মম হতে পারি। আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। কারণ আমি আপনার দেখা সবচেয়ে দয়ালু এবং অমায়িক ব্যক্তি হতে পারি। কিন্তু একবার আমার সীমা অতিক্রম করলে আমাকে এমন কিছু করতে দেখবেন, যা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। ’
নেতৃত্ব হারানোর বিষয়ে পাকিস্তানি পেসার আগে থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন। বাবর আজমকে অধিনায়ক বানানোর পর তার সমর্থনে আফ্রিদির একটি বিবৃতি প্রকাশ করে পিসিবি। আর তাতেই সৃষ্টি হয় সংকট। শাহিন আফ্রিদি দাবি করে বসেন, বাবরকে নিয়ে কোনো বিবৃতিই তিনি দেননি। পিসিবি ভুয়া বিবৃতি দিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বাঁহাতি পেসারের অধীনে পাকিস্তান খেলেছে একটি মাত্র সিরিজ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারে পাকিস্তান। পিএসএলে আগের দুই মৌসুমে লাহোর কালান্দার্সকে শিরোপা জেতানো আফ্রিদির দল এবার তেমন কিছুই করতে পারেনি। আসরে কেবল এক ম্যাচে জয় পেয়েছে। এমন বাস্তবতায় পিসিবি চেয়ারম্যান আগেই নেতৃত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি সোমবার শাহিন আফ্রিদির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এরপর ভুয়া বিবৃতি নিয়ে পিসিবি ভুল স্বীকার করে। ২৩ বর্ষী ক্রিকেটারকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার কারণ জানায় পিসিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘যদিও শাহিন আফ্রিদি নিঃসন্দেহে নিজেকে তারকা ফাস্ট বোলার হিসেবে প্রমাণ করেছেন। বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেয়া শাহিনকে বোর্ড তার সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স বজায় রাখতে বিশ্রামের গুরুত্বকে স্বীকার করে।’
‘এই সিদ্ধান্তটি খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের সেবা দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার সাথে বোর্ডের প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে গত দুই বছরে পেসারদের চোটের কথা বিবেচনা করা হয়েছে। কাজের চাপের কথা মাথায় রেখে, প্রধান বোলারদের ভালো থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত।’








