বিনোদন

নোলান থেকে কুবরিক, শাহরুখের সিনেমার পছন্দ কতোটা আলাদা?

নোলান থেকে কুবরিক, শাহরুখের সিনেমার পছন্দ কতোটা আলাদা?

বলিউডে তিনি রোমান্সের রাজা। পর্দায় তার রোমান্টিক অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছেন কয়েক প্রজন্মের দর্শক। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ কিংবা ‘বীর-জারা’র মতো সিনেমা তাকে দিয়েছে রোমান্টিক নায়কের বিশেষ পরিচিতি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, দর্শক হিসেবে শাহরুখ খানের সবচেয়ে কম পছন্দের সিনেমার ধরনই রোমান্টিক!

দর্শক হিসেবে বিশ্ব চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ রয়েছে বলিউডের এই সুপারস্টারের। ক্রিস্টোফার নোলান, স্ট্যানলি কুবরিকের মতো নির্মাতাদের সিনেমা তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে। অ্যাকশন, সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার, কোর্টরুম ড্রামা থেকে শুরু করে ডিস্টোপিয়ান গল্প, নানা ধরনের সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন তিনি।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব #আস্কএসআরকে-তে নিজের পছন্দের কয়েকটি সিনেমার নাম জানিয়েছিলেন শাহরুখ। আবার ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সাময়িকী ভ্যারাইটি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দর্শক হিসেবে নিজের সিনেমার রুচি নিয়েও কথা বলেন তিনি। সেই সব বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, পর্দার রোমান্টিক বাদশাহর ব্যক্তিগত সিনেমার পছন্দ বেশ বৈচিত্র্যময়।

শাহরুখের পছন্দের নির্মাতাদের একজন ক্রিস্টোফার নোলান। ২০২২ সালের ১৭ ডিসেম্বর #আস্কএসআরকে পর্বে এক ভক্ত তার কাছে জানতে চান, নোলানের কোন সিনেমাগুলো তার সবচেয়ে প্রিয়। উত্তরে দুটি সিনেমার নাম বলেন শাহরুখ, ‘মেমেন্টো’ (২০০০) ও ‘দ্য প্রেস্টিজ’ (২০০৬)।

‘মেমেন্টো’ সিনেমার গল্প স্মৃতিশক্তি হারানো এক ব্যক্তিকে ঘিরে। স্ত্রীর হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হয় সে। অন্যদিকে ‘দ্য প্রেস্টিজ’-এ দুই জাদুকরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রহস্য ও প্রতিশোধের গল্প তুলে ধরেছেন নোলান। গল্প বলার অভিনব কৌশল এবং মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার কারণে সিনেমা দুটি বিশ্বজুড়ে দর্শকের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত।

শুধু নোলান নন, কিংবদন্তি নির্মাতা স্ট্যানলি কুবরিকের সিনেমাও পছন্দ করেন শাহরুখ। একই #আস্কএসআরকে পর্বে এক ভক্ত জানতে চান, কুবরিকের কোন সিনেমাটি তার প্রিয়। উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ’ (১৯৭১)।

সমাজ, অপরাধ, সহিংসতা ও মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের আলোচিত কাজগুলোর একটি। প্রচলিত বিনোদনধর্মী সিনেমার বাইরে গিয়ে এমন একটি বিতর্কিত ও চিন্তাশীল চলচ্চিত্রের প্রতি শাহরুখের আগ্রহ তার সিনেমার রুচির ভিন্ন দিক তুলে ধরে।

বলিউডের আরেক সুপারস্টার সালমান খানের সিনেমার প্রতিও ভালো লাগা রয়েছে শাহরুখের। ২০২২ সালের একই প্রশ্নোত্তর পর্বে এক ভক্ত জানতে চান, সালমানের কোন সিনেমাটি তার সবচেয়ে পছন্দের। উত্তরে শাহরুখ বলেন, ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ (২০১৫)।

কবির খান পরিচালিত সিনেমাটিতে একজন পাকিস্তানি শিশুকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে এক ভারতীয় যুবকের মানবিক প্রচেষ্টার গল্প উঠে এসেছে। সালমান ও কারিনা কাপুর অভিনীত সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল।

২০২৪ সালের আগস্টে ভ্যারাইটি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহরুখ জানান, দর্শক হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট ঘরানায় নিজেকে আটকে রাখতে চান না তিনি। অ্যাকশন সিনেমা, সায়েন্স ফিকশন, ডিস্টোপিয়ান গল্প, ব্যতিক্রমী মানবিক নাটক, কোর্টরুম ড্রামা ও থ্রিলার দেখতে ভালোবাসেন।

বিশেষ করে হলিউড তারকা টম ক্রুজের সিনেমার প্রতি তার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। ‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজের প্রশংসা করে শাহরুখ বলেন, এই সিরিজের সিনেমা দেখলে দর্শক সাধারণত হতাশ হয়ে ফেরেন না।

তবে নিজের জনপ্রিয় পরিচয়ের সঙ্গে কিছুটা বিপরীত একটি কথাও জানিয়েছেন তিনি। শাহরুখের ভাষ্য, দর্শক হিসেবে রোমান্টিক সিনেমাই তার সবচেয়ে কম পছন্দের ঘরানা। অথচ এই ঘরানার সিনেমায় অভিনয় করেই তিনি পেয়েছেন ‘কিং অব রোমান্স’ উপাধি।

শাহরুখের এই স্বীকারোক্তি নিঃসন্দেহে মজার। কারণ, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ কিংবা ‘রব নে বানা দি জোড়ি’র মতো সিনেমার মাধ্যমে তিনি রোমান্টিক নায়কের যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তা বলিউডের ইতিহাসেই বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

কিন্তু তার নিজের বক্তব্য বলছে, দর্শক হিসেবে তিনি বরং রহস্য, মনস্তত্ত্ব, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, অ্যাকশন ও জটিল গল্পের সিনেমায় বেশি আগ্রহী। অর্থাৎ পর্দায় যে শাহরুখকে দর্শক প্রেমিক হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত, ব্যক্তিগত সিনেমার পছন্দে তিনি অনেকটাই আলাদা। বলিউড হাঙ্গামা, ওটিটি প্লে, টাইমস অব ইন্ডিয়া

বিষয়:ক্রিস্টোফার নোলান বলিউড বলিউড কিং রোমান্টিক নায় রোমান্স শাহরুখ খান

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…