জনপদ

নবম দিনেও সাজেকে সড়ক অবরোধ, খাদ্য ও ওষুধ সংকটের আশঙ্কা

নবম দিনেও সাজেকে সড়ক অবরোধ, খাদ্য ও ওষুধ সংকটের আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে নবম দিনের মতো চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনকারীদের এ কর্মসূচির কারণে সাজেকের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি দুর্গম গ্রামগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে অবরোধের সমর্থনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালান আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

দীর্ঘদিন সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাজেক ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে পর্যটননির্ভর এ এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির হয়ে পড়েছে।

এদিকে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সেনাক্যাম্প পরিদর্শনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বাঘাইহাট জোনের সেনাক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের কাজের খোঁজখবর নেন। প্রতিকূল পরিবেশ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

সফরকালে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও চট্টগ্রাম এরিয়ার এরিয়া কমান্ডারসহ সেনাসদর এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ দফা দাবি আদায়ে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠন দুটির দাবির মধ্যে রয়েছে ২২ অক্টোবরের হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, উজোবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ, সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার এবং হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন। এ ছাড়া সাজেক থেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধের ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছে তারা। আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধের দাবিও রয়েছে।

গত ২২ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অবরোধকারী ও দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এর আগে জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে প্রত্যাহার, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের আগের আশ্বাস বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর আন্দোলন শুরু করে সংগঠন দুটি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে ২২ অক্টোবর থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়।

অবরোধের কারণে সাজেকে আটকা পড়েন ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক। তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে গত ২২ অক্টোবর সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে গাড়িবহর নিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাত্রা করে। তবে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বহরটি উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা সড়কে ব্যারিকেড দেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পথ বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ আলোচনা করেও অবরোধকারীদের সরানো সম্ভব না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সাজেকের চলমান সংকট নিরসনে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুই সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় আলোচনা হলেও একটি দাবিতে সমঝোতা না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ৩টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজারে প্রশাসনের প্রতিনিধি ও আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান জানান, পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

তবে সাজেক থেকে জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আলোচনা এগোয়নি। ফলে অবরোধ প্রত্যাহার নিয়েও কোনো সমাধান আসেনি।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং তা পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।

বিষয়:রাঙামাটি সড়ক অবরোধ সাজেক

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…