আন্তর্জাতিক

ভারতের মধ্যপ্রদেশে ধর্মীয় চিকিৎসার ওপর নির্ভরতা: এক মাসে ৩২ শিশুর মৃত্যু

ভারতের মধ্যপ্রদেশে ধর্মীয় চিকিৎসার ওপর নির্ভরতা: এক মাসে ৩২ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত ও আদিবাসী অধ্যুষিত বালাঘাট জেলায় সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় এবং স্থানীয় ধর্মীয় চিকিৎসার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে মাত্র এক মাসে অন্তত ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, এসব শিশুর মৃত্যুর প্রধান কারণ হাম ও ম্যালেরিয়া। এর সঙ্গে তীব্র অপুষ্টি এবং হাসপাতালে পৌঁছাতে ও চিকিৎসায় বিলম্ব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। মৃত শিশুদের বয়স তিন-চার মাসের শিশু থেকে শুরু করে ১৮ বছর পর্যন্ত, যাদের অধিকাংশই বাইগা সম্প্রদায়ের সদস্য।

প্রায় ৮ থেকে ১০টি মৃত্যু হামের সঙ্গে এবং আরও প্রায় ১০টি মৃত্যু ম্যালেরিয়ার কারণে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক শিশু একসঙ্গে একাধিক সংক্রমণেও আক্রান্ত ছিল। বালাঘাটের দুর্গম ও বনাঞ্চলঘেরা এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। বর্ষায় কাঁচা রাস্তা কাদায় পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় এবং যাতায়াত বন্ধ থাকায় মুমূর্ষু শিশুদের বাঁশের তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচার বা মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নিতে হয়। সঠিক চিকিৎসায় না গিয়ে স্থানীয় ও ধর্মীয় চিকিৎসকদের দেওয়া সিরাপ, ট্যাবলেট বা মলমের ওপর ভরসা করায় বহু শিশুর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। অপুষ্টির কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে হাম বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। এছাড়া ২০২৪ সালের একটি সরকারি প্রতিবেদনে পুষ্টিকর খাবার বিতরণেও বিভিন্ন অনিয়মের কথা উঠে এসেছিল।

পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার পর টনক নড়ে প্রশাসনের। জরুরি ভিত্তিতে শুরু হয় টিকাদান কর্মসূচি এবং ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৭ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার ২০০ জনের বেশি রোগীকে বাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিক থেকে নতুন কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্যকর্মীরাও বর্তমানে গ্রামগুলোতে নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিষয়:চিকিৎসা ধর্মীয় আচার ধর্মীয় চিকিৎসা মধ্যপ্রদেশ শিশুর মৃত্যু

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…