শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা মুষলধারে বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর অনেক এলাকার রাস্তাঘাট। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, স্বাভাবিক হিসেবে চলতি বর্ষা মৌসুমে আজই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ঢাকায়।
আজ শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ১৩০ মিলিমিটার। আবহাওয়া বিভাগের দাবি, চলতি বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক অবস্থায় রাজধানীতে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে আজকেই।
আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের সময় গত ২৭ মে ঢাকায় এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছিল ২২৪ মিলিমিটার। এটি ছিল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবজনিত বৃষ্টি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানা হয়, বৃষ্টির কারণে ফকিরেরপুল, নয়াপল্টন, বায়তুল মোকাররম, তোপখানা রোড, মৎস্যভবন, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ মোড়, আরামবাগ, প্রগতি সরণী, নিউমার্কেট, ধানমন্ডির রাপা প্লাজা, মিরপুরের রোকেয়া সরণি, পুরোনো ঢাকার দয়াগঞ্জ মোড়, বংশাল, নিমতলীর টোয়েনবি সার্কুলার রোড জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া বিভাগ বলছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন ঘণ্টা পরপর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৬০ মিলিমিটার। পরের তিন ঘণ্টায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৭০ মিলিমিটার। সবমিলে ৬ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড ১৩০ মিলিমিটার।
আবহাওয়া বিভাগ আরও জানিয়েছে, রাজধানীসহ প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারে (৩০৯ মিলিমিটার)। এছাড়া সন্দ্বীপে বৃষ্টি হয়েছে ২১৯ মিলিমিটার, সীতাকুণ্ডে ১০২ মিলিমিটার।
এই ভারী এই বৃষ্টির ফলে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী।
সকালের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর গ্রিনরোড, মোহাম্মদপুর, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা, ইসিবি, মালিবাগ, শান্তিনগর, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট এবং ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া শনির আখড়া, যাত্রবাড়ী, মীর হাজির বাগ, সায়দাবাদ, দয়াগঞ্জ বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর ১৩, মিরপুর ১০ ও ১১ নং সেকশন, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পীরেরবাগ, কল্যাণপুর, হাতিরঝিলের কিছু অংশ এবং গুলশান লেকপাড় এলাকার সড়কগুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিকুল নেওয়াজ কবির চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১ টা পর্যন্ত ঢাকা ও পাশ্ববর্তী এলাকার আকাশ মেঘলা থেকে অস্থায়ী মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় থাকায় আগামীকাল শনিবার ও রোববার রংপুর, রংপুর বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
বৃষ্টির কারণে সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় গাড়ি চালানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। ফলে রিকশা ও সিএনজি ভাড়াও দ্বিগুণ হয়েছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বাইরে কাজে বের হওয়া মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম। সকালের বৃষ্টির শব্দে অনেকের ঘুম ভেঙেছে। তারপরেও যাদের কাজে বের হতে হয়েছে তারা পড়েছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে।










