বিনোদন

‘আমি দীপিকা-আলিয়া নই’- যে কারণে বললেন রাধিকা

অভিনয়, বক্স অফিস ও মাতৃত্ব নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য রাধিকা আপ্তের

‘আমি দীপিকা-আলিয়া নই’- যে কারণে বললেন রাধিকা

বক্স অফিসের অনিশ্চয়তা, সহিংসতানির্ভর ছবির জনপ্রিয়তা ও মাতৃত্বের পর বদলে যাওয়া জীবন- সব মিলিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে। তার মতে, প্রেক্ষাগৃহে নারীপ্রধান ছবির ওপেনিং কঠিন।

প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবির সাফল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে নারীপ্রধান ছবির ক্ষেত্রে প্রথম দিন থেকে ভালো ব্যবসা পাওয়া কঠিন বলে মনে করেন বলিউড অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে।

তার মতে, আলিয়া ভাট বা দীপিকা পাড়ুকোনের মতো শীর্ষ তারকাদের ছবি মুক্তির শুরুতেই ভালো ব্যবসা করার আশা জাগালেও তার নিজের ক্ষেত্রে সেই নিশ্চয়তা নেই। সম্প্রতি পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন অভিনেত্রী।

স্বাধীন ধারার সিনেমা থেকে শুরু করে মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন রাধিকা। ‘শোর ইন দ্য সিটি’, ‘বদলাপুর’, ‘মাঝি: দ্য মাউন্টেন ম্যান’, ‘পার্চড’, ‘প্যাড ম্যান’ ও ‘আন্ধাধুন’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি ‘স্যাক্রেড গেমস’ ও ‘ঘুল’-এর মতো ওটিটি সিরিজেও প্রশংসিত হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

প্রেক্ষাগৃহে তার সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মেরি ক্রিসমাস’। অন্যদিকে, ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’, ‘সালি মহব্বত’, ‘মিসেস আন্ডারকভার’ ও ‘মোনিকা, ও মাই ডার্লিং’-এর মতো কাজের মাধ্যমে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজের উপস্থিতি ধরে রেখেছেন তিনি।

প্রেক্ষাগৃহে তুলনামূলকভাবে কম কাজ করার বিষয়ে রাধিকা বলেন, কোনো প্রকল্প বেছে নেওয়ার সময় সেটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে, নাকি ওটিটিতে- তা নিয়ে তিনি বিশেষ ভাবেন না। তার ভাষায়, “কোনো প্রকল্প প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে, নাকি ওটিটিতে—তা বিবেচনা করে আমি কাজ বেছে নিই না। বিষয়টি নিয়ে আমি আসলে খুব একটা মাথা ঘামাই না।”

অভিনেত্রীর মতে, একটি ছবি কোথায় মুক্তি পাবে, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নানা ব্যবসায়িক হিসাব জড়িত থাকে। তাই ছবিটি শেষ পর্যন্ত যেকোনো একটি মাধ্যমে মুক্তি পাক, সেটিই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সময়ে প্রেক্ষাগৃহে কোন ধরনের ছবি দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে, তা বোঝা কঠিন বলে মনে করেন রাধিকা। তার মতে, একজন অভিনেত্রী প্রধান চরিত্রে রয়েছেন- শুধু এই কারণে কোনো ছবির বক্স অফিস সাফল্য নিশ্চিত হয় না।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত কয়েক বছরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর ক্ষেত্রে কোনটি কাজ করছে আর কোনটি করছে না, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছি – এমন কোনো ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলে, সেটি যত ভালো ছবিই হোক না কেন, বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

আলিয়া ভাট ও দীপিকা পাড়ুকোনের প্রসঙ্গ টেনে রাধিকা আরও বলেন, “সাধারণভাবে বলতে গেলে, আমি আলিয়া ভাট বা দীপিকা পাড়ুকোন নই, যাদের ছবি মুক্তির শুরুতেই ভালো ব্যবসা করবে বলে অন্তত আশা করা যায়। আমি একেবারেই খোলাখুলি কথা বলছি। এর অর্থ হলো, আমাকে এমন ছবিতে অভিনয় করতে হবে, যেখানে পুরুষ অভিনেতারাই মূল ভূমিকায় থাকবেন।”

রাধিকার মতে, বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহের ব্যবসায় সহিংসতানির্ভর ছবির প্রভাব চোখে পড়ার মতো। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি এ ধরনের ছবির প্রতি আগ্রহী নন। বরং পর্দায় অতিরিক্ত মারধর ও সহিংসতার দৃশ্য দেখানোর প্রবণতার তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, “বর্তমানে যে ধরনের ছবি সফল হচ্ছে, তার মধ্যে সহিংসতা অন্যতম। আর আমি এর তীব্র বিরোধী। তাই পরিস্থিতিটা বেশ জটিল। আমি এ ধরনের ছবি দেখি না; আমার কাছে এগুলো অযৌক্তিক মনে হয়।”

পর্দায় দীর্ঘ সময় ধরে মারধরের দৃশ্য দেখানো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাধিকা। তার মতে, সহিংসতাকে বারবার নতুনভাবে উপস্থাপনের এই প্রবণতা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এমন ছবির অংশ হওয়ার চেয়ে দূরে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি।

অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন রাধিকা। ২০২৪ সালে তার ও স্বামী বেনেডিক্ট টেলরের ঘরে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান। বেনেডিক্ট একজন ব্রিটিশ বেহালাবাদক ও সুরকার।

মা হওয়ার পর কাজের ক্ষেত্রে তার অগ্রাধিকার বদলে গেছে বলে জানান অভিনেত্রী। এখন দীর্ঘ কর্মঘণ্টার পরিবর্তে যুক্তিসংগত সময়ে কাজ করা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোকে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।

রাধিকার কথায়, “এখন আমার শর্তগুলো বদলে গেছে। আমি শুধু চাই, দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে, ১৬ ঘণ্টা নয়। অথবা কাজের ফাঁকে কিছুটা ছুটি পেতে। কিন্তু সব সময় তা সম্ভব হয় না।”

একসময় কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। তার ভাষায়, এমন সময় এসেছিল, যখন কোনো কাজই তার কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি যে তার জন্য ব্যক্তিগত সময় ছেড়ে দিতে হবে।

মেয়ের সঙ্গে যতটা সম্ভব বেশি সময় কাটাতে চান রাধিকা। তিনি বলেন, “আমি মেয়ের সঙ্গে যতটা সম্ভব বেশি সময় কাটাতে চেয়েছি, এখনও চাই। কারণ, ও এখনও খুব ছোট। কাজই আমার পুরো জীবন নয়। কোনো দিনই তা ছিল না; কাজ আমার জীবনের একটা অংশমাত্র।”

মাতৃত্বের প্রভাব পড়েছে তার লেখালেখির অভ্যাসেও। সন্তান হওয়ার আগে একটি পডকাস্টে সন্তানকে লেখালেখির পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করতে শুনেছিলেন রাধিকা। তখন বিষয়টি নিয়ে হেসেছিলেন তিনি। কিন্তু মা হওয়ার পর সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অভিনেত্রী।

রাধিকা বলেন, “সন্তান হওয়ার আগে একবার একটি পডকাস্ট শুনছিলাম। সেখানে বলা হয়েছিল, ‘জীবনে লেখালেখির পথে সবচেয়ে বড় বাধা কী? সন্তান।’ কথাটা শুনে আমি হেসে বলেছিলাম, ‘আমি কখনোই সন্তান নেব না।’ কিন্তু এখন আমার সন্তান হয়েছে। লিখতে কম্পিউটারের সামনে বসি, চেষ্টা করি, কিন্তু একসময় ঘুমিয়ে পড়ি। তাই এই মুহূর্তে সবকিছুই একটু ধীরগতিতে চলছে।”

ভবিষ্যতে অভিনয় নিয়ে নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কেও নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি। রাধিকার মতে, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। আগামী দিনে তিনি হয়তো কাজ কমিয়ে দেবেন, আবার অনেক কাজও করতে পারেন। তাই প্রেক্ষাগৃহে কম কাজ করার পেছনে একটিমাত্র কারণ খোঁজা ঠিক হবে না।

এদিকে, রাধিকা আপ্তেকে সামনে দেখা যাবে ‘আক্কা’ সিরিজে। আশির দশকের পটভূমিতে নির্মিত এই গ্যাংস্টার ড্রামায় তার সঙ্গে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন কীর্তি সুরেশ। সিরিজটি ৩০ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এনডিটিভি

বিষয়:অভিনেত্রী বক্স অফিস বলিউড মাতৃত্ব রাধিকা আপ্তে সহিংসতা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…