আন্তর্জাতিক

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন

শান্তিনিকেতনে ছাত্রছাত্রীরা প্রকৃতির মাঝে ধ্যান করছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

শান্তিনিকেতনের প্রাকৃতিক পরিবেশে ছাত্রছাত্রীরা ধ্যান ও প্রার্থনা করছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

এক শতাব্দী আগে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্মিত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় অবস্থিত শান্তিনিকেতন সম্প্রতি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গতকাল (১৭ সেপ্টেম্বর) রোববার নিজেদের অফিশিয়াল এক্স (টুইটার) পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইউনেস্কো। এছাড়াও ওই পোস্টে ভারতকে অভিনন্দনও জানিয়েছে তারা।

সৌদি আরবে চলমান ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৫তম অধিবেশনে শান্তিনিকেতনকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শান্তিনিকেতনকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছিল ভারত।

শান্তিনিকেতন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে ১৬০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত একটি শিক্ষা শহর। যা পূর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বারা নির্মিত একটি আশ্রম ছিল। যে কেউ, তাদের জাতি এবং ধর্ম নির্বিশেষে, এক পরম ঈশ্বরের সামনে এখানে এসে ধ্যান করতে পারত। বর্তমানে শান্তিনিকেতনে অবস্থিত বিশ্বভারতী ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার এক্স (টুইটার) পোস্টে বিষয়টিকে সকল ভারতীয়দের জন্য গর্বের মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমি আনন্দিত যে শান্তিনিকেতন, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টিভঙ্গির মূর্ত প্রতীক এবং ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তিনি আনন্দিত এবং গর্বিত যে শান্তিনিকেতন অবশেষে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলার অহংকার, শান্তিনিকেতন কবিগুরু দ্বারা লালিত-পালিত হয়েছে এবং প্রজন্ম ধরে বাংলার মানুষের দ্বারা সমর্থিত হয়েছে। বিশ্ব এখন ঐতিহ্যের গৌরবকে স্বীকৃতি দিয়েছে। যারা বাংলাকে, ঠাকুরকে এবং তাঁর ভ্রাতৃত্বের বার্তাগুলোকে ভালবাসেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ। জয় বাংলা, গুরুদেবকে প্রণাম।

শান্তিনিকেতন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ১৯৫১ সালে। পরে ভারতের সংসদের একটি আইন দ্বারা একে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় গুরুত্বের একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে ঘোষণা করা হয়। বিশ্বভারতী পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী এর চ্যান্সেলর।

বিষয়:ইউনেস্কো বিশ্বভারতী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…