এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
পর্তুগালের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক গর্বের নাম মন্জিল দিগন্ত। পর্তুগালে ডাক্তারি শিক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করে দেশের সনদপ্রাপ্ত ও অফিসিয়াল ডাক্তার হিসেবে নিজের পেশাগত যাত্রা শুরু করেছেন ।
বাবা পর্তুগাল প্রবাসী কবি মোরশেদ কমল বলেন আমার দুই ছেলের মধ্যে দিগন্ত ছোট ছেলে বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছে পর্তুগালের স্বনামধন্য কোম্পানিতে আর ছোট ছেলে ডাক্তার হয়েছে এতে আমার কাছে যেমন গর্বের তেমনি পর্তুগালে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য গর্বের। দিগন্তই প্রথম কোন বাংলাদেশী হিসাবে ডাক্তার হয়েছে পর্তুগালের মাটিতে ।
মন্জিল দিগন্তের এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয় এটি পর্তুগালের পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশক থেকে পর্তুগালে বাংলাদেশিদের বসবাস ও কমিউনিটি গড়ে ওঠার যে দীর্ঘ পথচলা, সেই ইতিহাসে ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশ কমিউনিটি থেকে একজন চিকিৎসক হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করেন পর্তুগালের বসবাস কারা প্রবাসী বাংলাদেশীরা।
শিক্ষা ও পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও মন্জিল দিগন্তের রয়েছে অনন্য পরিচয়। তিনি পবিত্র কুরআনের হাফেজ ও ক্বারী। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে লিসবনের মার্তিম মনিজ এলাকার বড় মসজিদে নিয়মিত তারাবির নামাজে কুরআন তিলাওয়াত করে আসছেন। জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ে তাঁর এই পথচলা নতুন প্রজন্মের জন্য হতে পারে একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।মন্জিল দিগন্তের এই সাফল্য প্রমাণ করে, প্রবাসের মাটিতে বেড়ে ওঠা আমাদের নতুন প্রজন্মও কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও যোগ্যতার মাধ্যমে সমাজে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।
পর্তুগালে বসবাস করা প্রবাসী বাংলাদেশী সমাজ কর্মী যুবায়ের আহমেদ বলেন আমরা আশা করি, এটি কেবল শুরু—আগামী দিনে পর্তুগালের বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে আরও অনেক ডাক্তার, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন পেশায় সফল মানুষের গল্প আমরা গর্বের সঙ্গে তুলে ধরতে পারব দিন দিন আমাদের কমিউনিটি বড় হচ্ছে । মন্জিল দিগন্তের এই সাফল্য আমাদের জন্য আনন্দের, আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এবং পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য নিঃসন্দেহে গর্ব করার মতো একটি অধ্যায়।
পর্তুগালের বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে মন্জিল দিগন্ত ও তাঁর পরিবারকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। তাঁর এই অর্জন যেন আমাদের কমিউনিটির নতুন প্রজন্মকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করে।









