পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ভয়াবহ ক্ষতির শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকালে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে রাজধানী পানামা সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ভবন থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। ভূমিকম্পের পর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, গ্রিনিচ মান সময় শুক্রবার ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পানামার দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের পিতালোজা আররিবা এলাকার কাছাকাছি, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার গভীরে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৮.০ বলে জানানো হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭.৭ নির্ধারণ করা হয়।
ভূমিকম্পে বিভিন্ন স্থাপনা ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির ছয়টি প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র টোকুমেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ভূমিকম্পের পর এক ডজনেরও বেশি পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় এর প্রভাব ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজধানী পানামা সিটিতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কিত বাসিন্দারা নিরাপত্তার জন্য ভবন ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
সুনামির আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা কর্তৃপক্ষ জানায়, মেক্সিকো থেকে পেরু পর্যন্ত পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় সুনামির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ভূমিকম্পের পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় এসব অঞ্চলে বিপজ্জনক ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়।
সুনামির ঢেউ উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানলে প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং সমুদ্রের পানিতে ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া পানির স্রোতে ভেসে আসা ধ্বংসাবশেষও মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি, সম্ভাব্য সুনামি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।






