জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মন্ত্রী দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে “বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা” এবং “চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সভা” শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান।
মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার ন্যায় প্রায় ৩০০ একর জায়গায় একটি ‘পুলিশ একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা এবং ৭২ একর জায়গায় ‘চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার’ স্থানান্তরিত করা হবে। তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ অধিবাসীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি জমিতে নিয়মতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকা—বিশেষ করে রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়ায় পাহাড় কেন্দ্রিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রোধে রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে দুটি সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনঃনির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার/কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অপরাধ দমনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে মাদক কারবারি, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (APBN) নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে। এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪ শত উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার আইনি এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে, যা অপরাধ দমনে গতিশীলতা আনবে। তবে জরুরি অবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে এসওপি অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদার করার বিধান বহাল রয়েছে।
পরো সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস করে।






