২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পেলেন অ্যান কারসন

প্রখ্যাত কানাডিয়ান কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক এবং ক্লাসিক্যাল স্কলার (প্রাচীন গ্রিক ভাষার পণ্ডিত) অ্যান কারসনকে ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকাল প্রায় ৫টার দিকে নতুন এ নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করে সুইডিশ অ্যাকাডেমি। গত বছর এ পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরিয়ান লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।
নোবেল কমিটির ভাষ্য, ‘শাস্ত্রীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে খেলাচ্ছলে সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন নতুন রূপ সৃষ্টি করা তার সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের’ জন্য এই পুরস্কার।
কানাডার টরন্টোতে ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান কারসন। তিনি কবিতা লেখার পাশাপাশি অনুবাদ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার সাহিত্যকর্মে ভাষাবিদ বা ধ্রুপদি সাহিত্যের গবেষকের শব্দের প্রতি গভীর আগ্রহ এবং কবির নতুন অর্থ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষার সমন্বয় দেখা যায়।
কারসন নিজেই শব্দের ব্যুৎপত্তিকে তার সাহিত্যচর্চার সূচনাবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে তার করা অনুবাদগুলোও স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে স্যাফোর কবিতার খণ্ডাংশ নিয়ে -If Not, Winter (২০০২), সোফোক্লিসের Electra (২০০১) ও Antigone (২০১৫) এবং ইউরিপিদিসের Bakkhai (২০১৫)।
১৯৯০-এর দশকে কারসন একাধিক উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে Glass, Irony, and God (১৯৯৫) গ্রন্থের The Glass Essay বিশেষভাবে আলোচিত। দীর্ঘ কবিতার সম্ভাবনাকে এই রচনায় তিনি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে কবিতা ও অন্যান্য সাহিত্যের ঘরানার সীমারেখাও এখানে অস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
১৯৯৮ সালে প্রকাশিত Autobiography of Red: A Novel in Verse কারসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের ঐতিহ্যকে সমকালীন অভিজ্ঞতা ও ভাষার সঙ্গে মেলানোর অসাধারণ দক্ষতা এই রচনায় দেখা যায়। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের গ্রিক কবি স্টেসিকোরোসের কবিতার খণ্ডাংশে বর্ণিত ডানাওয়ালা লাল দানব গেরিয়নকে কেন্দ্র করে তিনি এই কাজটি নির্মাণ করেন।
কারসনের সাহিত্যচর্চায় লেখার নানা সম্ভাবনা অনুসন্ধানের প্রবণতা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ ক্ষেত্রে সাহিত্যিক স্কেচ বা সংক্ষিপ্ত রচনার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ২০১৬ সালের Float এর একটি উদাহরণ। বইটি ২২টি পৃথক চ্যাপবুক নিয়ে তৈরি এবং সেগুলো যেকোনো ক্রমে পড়া যায়।
২০২৪ সালে প্রকাশিত Wrong Norma বইটিতেও বিভিন্ন ধরনের লেখার সমন্বয় দেখা যায়। এতে অভিনয় ও পরিবেশনাধর্মী বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি শিল্প ও একাডেমিক বিভিন্ন ক্ষেত্রের সঙ্গে কারসনের কাজের সংযোগ রয়েছে।
চিত্রশিল্পী, কোরিওগ্রাফার, অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গে তার সহযোগিতামূলক কাজও সাহিত্যের প্রচলিত নিয়ম ও প্রত্যাশার বাইরে যাওয়ার প্রবণতা তুলে ধরে।
নোবেল কমিটির মতে, ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে কারসনের কাজের গুরুত্বের পেছনে এই স্বাধীন ও প্রচলনবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গিই বড় ভূমিকা রেখেছে।
নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ডার্স ওলসন কারসনের সাহিত্যকর্মের এই বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনী শক্তিকে পুরস্কার প্রদানের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।






