ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া না তবু জ্বর-ব্যথা, ছড়াচ্ছে কি নতুন ভাইরাস?

ছবি: সংগৃহীত
দেশে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন অনেকে। কিন্তু ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল আসছে। একাধিক পরীক্ষা করেও কারও কারও জ্বরের নির্দিষ্ট কারণ জানা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় নতুন কোনো ভাইরাস ছড়াচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কোনো ভাইরাসের সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. আহমেদ নওশের আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু ও হামসহ কয়েকটি পরিচিত রোগের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের সংক্রমণও হতে পারে।
তার মতে, ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও অন্য ভাইরাসের সংক্রমণ থাকতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা, রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) ও অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণেও জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। তবে সব রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় নির্দিষ্ট ভাইরাস শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. নেলসন তাপস মণ্ডল বিবিসি বাংলাকে বলেন, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব জ্বরের পেছনে কোন ভাইরাস দায়ী, তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। অনেক রোগীর ডেঙ্গুর মতো উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে না। কারও কারও সুস্থ হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে।
নতুন কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই বলেও জানান তিনি। তার মতে, বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবে সব রোগীর পক্ষে এসব পরীক্ষার খরচ বহন করা সম্ভব নয়। আবার সব জায়গায় সব ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষার সুবিধাও নেই।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, জ্বরের কারণ হিসেবে নতুন কোনো ভাইরাসের কথা ভাবার আগে পরিচিত রোগগুলোর সম্ভাবনা বিবেচনা করা জরুরি। ইনফ্লুয়েঞ্জা, টাইফয়েড ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন কারণেও জ্বর হতে পারে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯-এর উপসর্গের মধ্যে মিল থাকায় শুধু লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়।

**জ্বর হলে সতর্কতা**
চিকিৎসকেরা বলছেন, জ্বর হলে ডেঙ্গুর সম্ভাবনা মাথায় রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেই রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। কী ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং জ্বর শুরুর কত দিন পর পরীক্ষা করা হচ্ছে, তার ওপর ফলের নির্ভরযোগ্যতা নির্ভর করে।
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তক্ষরণ, অস্বাভাবিক অস্থিরতা বা নিস্তেজ হয়ে পড়া ডেঙ্গুর বিপজ্জনক লক্ষণ হতে পারে। জ্বর কমে যাওয়ার পরও জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর নেমে গেলেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন, এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়।
জ্বরে আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি-তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। অধ্যাপক নেলসন তাপস মণ্ডল বলেন, জ্বর ও শরীরব্যথা কমাতে প্রয়োজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অন্য ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।







