বাংলাদেশকে হারাতে বোলারদের ‘কৃতিত্ব’ দিলেন রোস্টন চেজ

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে বড় জয় তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ ম্যাচে দারুণ বল করেছেন সফরকারীদের পেস ও স্পিন বোলিং ইউনিট। ম্যাচ শেষের পর সে কথাই বলেছেন দলটির অধিনায়ক রোস্টন চেজ। তার মতে, বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে নিজেদের সেরা ছন্দে বোলিং করেছেন তার দল।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে রোস্টন চেজ বলেন, ‘যেকোনো জায়গায়, যেকোনো কন্ডিশনে টেস্ট ম্যাচ জেতা দারুণ একটা অনুভূতি। তবে আমরা এখানে জিততেই এসেছিলাম, তাই আমাদের যে ধরনের শুরু দরকার ছিল, এটি সেটাই। আর আমরা দুটো ম্যাচই জিততে চাই। সুতরাং এটি দুই লেগের লড়াইয়ের মাত্র প্রথম ধাপ।’
‘আমার মনে হয় আমাদের একটি মানসম্মত স্পিন আক্রমণ রয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে জোমেল ওয়ারিকান। সে এমন একজন যাকে সবাই বহু বছর ধরে চেনে, সে আমার সাথে স্কুলে পড়েছে এবং একজন ভালো কারিগর। সে উন্নতি করে চলেছে এবং যখনই সুযোগ পায়, সবসময় পারফর্ম করে। তার এটাই সবচেয়ে ভালো লাগে। সে আমাদের স্পিন বোলিং ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং আমাদের ভালো করার আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। তাই তাকে বলতে চাই দারুণ বোলিং করেছ।
‘শুধু স্পিনাররাই নয়, আমার মনে হয় পেসাররাও রান রেট নিয়ন্ত্রণে আমাদের দারুণ সহায়তা করেছে। তারা খুব বেশি রান দেয়নি বা প্রতিপক্ষকে বেশি রান রেট নিয়ে যেতে দেয়নি। আমার মতে, বিশেষ করে প্রথম দিনের দ্বিতীয় ঘণ্টায় আমরা সত্যিই নিজেদের সেরা ছন্দে বোলিং করতে পেরেছি এবং আমাদের লাইন ও লেংথের মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যাটসসম্যানদের চাপে ফেলেছিলাম। তাই যেমনটা বললাম, বোলিং ইউনিটের সবাইকে অভিনন্দন।’
মিরপুর টেস্টে মোড় ঘোরানো মুহুর্তের সম্পর্কে বলতে গিয়ে উইন্ডিজ অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মনে প্রথমে যেটা এসেছে, তা হলো ওদেরকে আমাদের চেয়ে খুব বেশি রান লিড নিতে না দেয়া; কারণ আপনি বাংলাদেশে, বিশেষ করে শেষ ইনিংসে খুব বেশি রান তাড়া করতে চাইবেন না। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে আমাদের দারুণ শুরুটা। আমার মনে হয়, আমরা ওদের দারুণ চাপে ফেলেছিলাম এবং দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে দ্রুত চার উইকেট তুলে নিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছে ওটা বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল এবং এরপর থেকে আমাদের শুধু ধৈর্য ধরে বাকি উইকেটগুলোর জন্য চেষ্টা করতে হতো।’
‘আর সেটাই আমরা করেছি। আমি এমনটা বলব না যে আমরা ওদের ছেড়ে দিয়েছি, তবে আমার মনে হয়েছে বিশেষ করে আজ সকালে (ওরা) ভালো খেলেছে। সে যে ফিফটি করেছে, তাতে আমাদের স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় মাঠে থাকতে হয়েছে। কিন্তু যেমনটা বললাম, আমরা ধৈর্য ধরে রেখেছি এবং নিজেদের পরিকল্পনা ওপর অটল থেকেছি, যার ফলে আমরা ওদের এমন একটা রানে আটকে ফেলতে পেরেছি যা আমাদের কাছে সামলানোর মতো মনে হয়েছে। আমরা শুধু একটা ভালো শুরু চেয়েছিলাম, যা আমরা করতে পেরেছি। আমার মনে হয় ক্যাম্পবেল ও ব্রেন্ডন কিং বেশ কয়েকটি ম্যাচ ধরে আমাদের ভালো শুরু এনে দিচ্ছে, তাই ওদের দুজনকে আবারও অভিনন্দন।’
রান তাড়া করার সময় কি পরিকল্পনা ছিল সেটি নিয়ে চেজ বলেন, ‘১৭০ রান, আমার মনে হয়েছিল এটা সামলানোর মতোই, কারণ আমার কাছে মনে হয়েছিল উইকেট তখনও ভালো ছিল। উইকেটে কোনো সমস্যা ছিল না। খেলা স্বাভাবিকভাবেই হচ্ছিল। মনে হয়েছিল উইকেটে কিছুটা বাউন্সও আছে; সম্ভবত এই প্রথম ঢাকায় কোনো উইকেটে এত বাউন্স দেখলাম।’
‘রান তাড়া করতে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে আমি শুধু চেয়েছিলাম ছেলেরা আমাদের একটা ভালো শুরু এনে দিক। কারণ আমার মনে হয়, রান তাড়া করার সময় আপনি যদি শুরুতেই খুব দ্রুত উইকেট হারিয়ে ফেলেন, তবে ড্রেসিংরুমে একটু ভীতি তৈরি হতে পারে। তাই আমি শুধু চেয়েছিলাম আমরা যেন মাঠে গিয়ে ভালো একটা শুরু পাই, এবং আমার মনে হয় সেটাই ছিল মূল চাবিকাঠি, যা আমরা করতে পেরেছি। এরপর আমি চেয়েছিলাম আমার ছেলেরা যেন মাঠে গিয়ে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলে। যদিও বাংলাদেশের কিছু ভালো স্পিনার আছে, তবুও আমি চেয়েছিলাম ওরা যেন মাঠে যায় এবং বাংলাদেশি স্পিনারদের বল লাইনচ্যুত হলে তাদের ওপর চড়াও হয়।’


