জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না’ ঘোষণাকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।
বুধবার চ্যানেল আই অনলাইনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তারা সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ রাখে। তাই এ ধরনের মন্তব্যের আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করাই উচিত ছিল।
ববি হাজ্জাজ বলেন, এনসিপি যে অভিযোগ তুলেছে, তা মূলত সংস্কারকেন্দ্রিক। কিন্তু তারা জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের (এনসিসি) বৈঠকে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে এবং সব ধরনের সংস্কার নিয়েই সেখানে আলোচনা করেছে। “তাদের পক্ষে বাইরে এসে এসব অভিযোগ তোলা ঠিক হয়নি,” বলেন তিনি।
পাটোয়ারীর ‘শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ধরে এনে বিচার করতে হবে, তারপর নির্বাচন’-এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ববি হাজ্জাজ বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে পারলে ভালো হয়। সে চেষ্টা আমরা করবো, তবে তার জন্য নির্বাচন আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তিনি আরও বলেন, কোনো স্বৈরশাসক দেশ ছেড়ে পালানোর পর ফিরে এসেছেন বা ফিরিয়ে আনা হয়েছে-এমন উদাহরণ বিরল। ইতিহাসে যা হয়নি, হাসিনার ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হবে ভাবাটাই সময়সাপেক্ষ।
এদিকে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ একই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বলেন, “ডিজিএফআইকে প্রয়োজনে নিষিদ্ধ করে দিতে হবে।”
এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমি কোনো বিশেষ সংস্থার নাম বলছি না, তবে ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি, এসবি যেই হোক না কেন—রাজনীতিতে সরকারি সংস্থার হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।”
আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করা হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, ডিজিএফআই দেশের বিরুদ্ধে বিদেশে কী ষড়যন্ত্র হচ্ছে, সে বিষয়ে তেমন কিছু জানে না। তারা রাজনৈতিক দল বা নেতাদের মুখোমুখি দাঁড় করানো নিয়েই ব্যস্ত থাকে।
পাটোয়ারী ওই অনুষ্ঠানে বলেন, ঘোষণা দিচ্ছি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। যদি নির্বাচন হয়, তবে সংস্কার ও নতুন সংবিধানের জন্য যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের রক্তের প্রতি অসম্মান হবে।
এনসিপি নেতাদের এসব বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।










