জাতীয় নিরাপত্তা তিনটি মূল ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নিরাপত্তা এখন আর শুধু সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনগণের ইচ্ছাশক্তি, সামাজিক সংহতি, অর্থনীতি, কূটনীতি, সাইবার নিরাপত্তা ও জাতীয় চেতনা। আর এসব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তরুণ প্রজন্মের। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ‘ইয়ুথ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি: শেপিং দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তার পরিবর্তিত ধারণা ও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আগে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত সশস্ত্র বাহিনীর ওপর ছিল। তবে বর্তমানে এর পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা এখন তিনটি মূল ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, প্রথম ভিত্তি হলো সশস্ত্র বাহিনী, তাদের সদস্য, সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি। দ্বিতীয় ভিত্তি জনগণের ইচ্ছাশক্তি, প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা ও সামাজিক সংহতি। আর তৃতীয় ভিত্তির মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, কূটনীতি, তথ্য, সাইবার ক্ষেত্র, রাজনীতি, ভৌগোলিক অবস্থান ও জাতীয় চেতনা।
এই তিনটি ক্ষেত্রেই তরুণ প্রজন্মের শক্তি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন ড. শামসুল ইসলাম। বাংলাদেশের মতো দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনটি সম্ভাব্য কৌশলের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এগুলো হলো প্রচলিত সামরিক সক্ষমতায় সমতা অর্জন, কৌশলগত জোট গঠন এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুল হক। বাংলাদেশের ইতিহাসে তরুণদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

এর আগে ক্যাম্পাসে ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশনস প্রোগ্রাম (এসআইসিআইপি)-ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।
শিল্প খাতে দক্ষতা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ উন্নত করতে গত বছর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও এসআইসিআইপির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় উন্নত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ওষুধশিল্প খাতে মোট ১ হাজার ৬১৫ জন পেশাজীবী ও স্নাতককে উন্নত কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মাধ্যমে এসআইসিআইপি বাস্তবায়ন করছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত। মোট ৩৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসআইসিআইপির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি নারী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং সেবা খাতে দক্ষতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার, ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, অফিস অব কমিউনিকেশন্সের ডিরেক্টর খায়রুল বাশার, স্টুডেন্ট লাইফের হেড তাহসিনা রহমান, ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক আফসানা আখতার এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর অমিতাভ চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।






