এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও গাজীপুর জেলায় সেনা মোতায়েন করা হবে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে সোমবার (২২ জুন) সেনা মোতায়েনের জন্য চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা–২ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে চিঠিটি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শো–ডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি করছে। এর মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় নয় দিনের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করা হয়।
২২ থেকে ৩০ জুন ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনাসদস্যরা কাজ করবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে কিছু কিছু এলাকায় অপতৎপরতা হতে পারে এমন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হয়নি। কিছু অপতৎপরতা দেখা যাচ্ছে। যাতে যে কোনো প্রকার অপতৎপরতা রোধ করা যায় সে জন্য সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এটা রুটিন ওয়ার্ক।
এদিকে, আগামীকাল ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুরো ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচি কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুরো ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে রাজধানী জুড়ে ২০০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ তল্লাশিচৌকি বসানো হবে। একই সঙ্গে ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরের সবকটি প্রবেশপথে কড়া চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে। যাতে কোনো বহিরাগত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।







