শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে কারাগারে মাদ্রাসার শিক্ষক

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্বরিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষক মুসলেউদ্দিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’
এর আগে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। অন্যদিকে মাদ্রাসায় ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর ও টাকা-মুঠোফোন লুটের অভিযোগে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার ওই শিক্ষার্থীর পিতা শাহজালাল রুমী গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমার-আপনার বাচ্চা কোথায় নিরাপদ; দ্বীনের শিক্ষার জন্য আপনি মাদ্রাসায় দিচ্ছেন। সেখানেও নিপীড়ন হচ্ছে। তবে আমি বলব না মাদ্রাসা বা আলেমরা খারাপ। থাপ্পড় দিয়ে আমি আলেম সমাজ বা শিক্ষককে অপমান করি নাই। আমি একজন দুশ্চরিত্র ও লম্পটকে থাপ্পড় দিয়েছি।’
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করে। তাকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীদেরও মারধর করা হয়। এ সময় কার্যালয় ভাঙচুর করে ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
তবে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা। শুক্রবার দুপুরে তিনি বলেন, ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হুমকিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
বুধবার ২১ অক্টোবর দুপুরে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ভাইস প্রিন্সিপালকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় শিশুটির অভিভাবকদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
শিশুটির পরিবারের বরাত দিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, গত তিন দিন ধরে শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করছিল। এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে ভয়ে কিছু বলতে পারেনি সে। পরে বাবা-মায়ের বারবার জিজ্ঞাসার মুখে মাদ্রাসার শিক্ষক মুসলেউদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করে শিশুটি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের কাছ থেকে অভিযোগ শোনার পর বুধবার দুপুরে তার বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা ওই শিক্ষককে মারধর করেন।
খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুসলেউদ্দিনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান শুক্রবার বলেন, যৌন নিপীড়নের মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হুমকির বিষয়ে ওসি বলেন, উভয় পক্ষই মৌখিকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






