সূত্র: ডয়েচে ভেলে (ডিডব্লিউ)।
বর্তমানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক ঋণগ্রস্থ। দেশে এবং দেশের বাইরে এই দেনার পরিমান ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
এর মধ্যে শুধু ভারতের ৫টি বিদ্যুৎ উদপাদনকারী প্রতিষ্ঠানই পাবে ১০০ কোটি ডলারের বেশি। পাশাপাশি টাকা পাবে কিছু দেশিয় প্রতিষ্ঠানও। যার ফলে এলএনজি আমদানিতেও সংকট হওয়ায়, কয়লাও দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে জ্বালানি সংকটে কমেছে বিদ্যুৎ উদপাদন যা দেশের মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে লোডশেডিং যুগে।
ভারত থেকেও বিদ্যুৎ কম আসছে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াটের মতো। সবকিছু মিলিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) ওয়েব সাইটের তথ্য মতে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২২৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ করা গেছে ১৩ হাজার ৯৩৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ২৯১ মেগাওয়াচ। গত সোমবার বেলা ৩টায় ১ হাজার ৮৭৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। গত রবিবারও দেশে গড়ে ১ হাজার ২৯১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।
জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, জ্বালানি সংকটে বিদ্যুতের কিছু ঘাটতি আছে। আমরা সেই ঘাটতি কিভাবে পূরণ করা যায় তা নিয়ে আলাপ আলোচনা করছি, চেষ্টা করছি সমস্যা সমাধানের।
মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৩ হাজার ৫৯৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ আছে। জ্বালানি সংকটে দেশে ৬ হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। বিদ্যুতে প্রতিদিন গড়ে ৮৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, যা এপ্রিলে ছিল ১৩৫ কোটি ঘনফুট। সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যাসের সরবরাহ কমেছে।
পেট্রোবাংলা প্রতিদিন সরবরাহ করছে ২৫৯ ঘনফুট গ্যাস। এদিকে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি কমেছে। ত্রিপুরা থেকে ঘণ্টায় ১৬০ মেগাওয়াটের স্থানে ৬০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ভারতের সরকারি-বেসরকারি খাত থেকে ভেড়ামারা দিয়ে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসার কথা থাকলেও মিলছে ৮৮০ মেগাওয়াট। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও ৪০০ মেগাওয়াট কম আসছে।
গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি বেশ খারাপ। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানায়, বানিয়াচং উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট। আর পাওয়া যাচ্ছে ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ায় গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উত্তরের ১৬ জেলায় পল্লী বিদ্যুৎ ও নেসকো মিলে বিদ্যুতের চাহিদা ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট।
কিন্তু দু’দিন ধরে সরবরাহ মিলছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। রাজশাহী বিভাগে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সরবরাহ কম থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
ঢাকার দুই বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডিপিডিসি ও ডেসকোর তথ্যানুসারে, গতকাল ঢাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ৪০০ মেগাওয়াট। পরিস্থিতি সামলাতে ডেসকোকে অঞ্চলভেদে ৩ থেকে ৪ বার লোডশেডিং করতে হয়েছে, আর ডিপিডিসির এলাকায় দুই থেকে তিনবার লোডশেডিং হয়েছে।







