বিদায়বেলায় আর্জেন্টিনা নিয়ে যে বার্তা দিয়ে গেলেন মেসি

শেষ হল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়। সমর্থক এবং সতীর্থদের কাঁদিয়ে জানালেন বিদায়। নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষেও ছিলেন অদম্য লড়াকু মনোভাব। ১ গোল দুই অ্যাসিস্টে দলকে জিতিয়েছেন ২-১ গোলে। ম্যাচ শেষে তাকে দেয়া হয় সংবর্ধনা, যেখানে কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে শুধু জয় নয়, ম্যাচজুড়ে ছিল মেসিকে ঘিরে আবেগের ঢেউ। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ মনুমেন্টাল যেন রূপ নিয়েছিল এক মহাবিদায় মঞ্চে। ম্যাচের ১০ মিনিটে বিশেষভাবে খেলা থামিয়ে দেওয়া হয় মেসিকে সম্মান। পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে করতালিতে বিদায়ী অধিনায়ককে অভিবাদন জানায়, সঙ্গে ছিল আতশবাজির আলো।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এখন অবসর নেয়ার সময় হয়েছে। গত বিশ্বকাপটা ছিল অত্যন্ত তীব্র এক অভিজ্ঞতা। সেই পুরো যাত্রায় আমাকে অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমার নিজের এবং পুরো দেশের একটি স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য ছিল আমাদের, ২০২২ সালে আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া। দলের সতীর্থদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, তারাই আমার শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছে। তাদের কারণেই আমি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। মাঠের ভেতরে এবং বাইরে সব সতীর্থের সাথে সময় কাটানোটা ছিল আমার জন্য এক বড় সম্মানের বিষয়। আমরা যখনই মাঠে নামতাম, জানতাম যে যেকোনো দলের বিপক্ষেই আমরা লড়াই করতে সক্ষম। কারণ আমি জানতাম, আমার পাশে এমন সব লড়াকু খেলোয়াড় আছে যারা মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।’
‘একটা কথা বলতে চাই, এই বছরের গত বিশ্বকাপে আমরা শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলাম। আর আমাদের নিয়ে অনেকে অনেক কথা বললেও, আসলে কিন্তু অস্বাভাবিক বা অদ্ভুত কিছুই ঘটেনি। বিশ্বজুড়ে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চান। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং তাদের সেই তৃপ্তি দেয়া যাবে না।’
‘এখন থেকে আমিও আর্জেন্টিনার একজন ভক্ত হয়ে আপনাদের পাশে থাকব। এই খেলোয়াড়দের এবং ভবিষ্যতে যারা আসবে, তাদের সবাইকে সমর্থন জোগাব। আমরা সবসময়ই ঐক্যবদ্ধ।’





