বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গবেষণায় দেশে শীর্ষে যবিপ্রবি

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক গবেষণা ডাটাবেজ স্কোপাসে সূচিবদ্ধ গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যার দিক থেকে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৪টি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্কোপাসের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুসন্ধানের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে রিসার্চ হাবে প্রকাশিত তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তালিকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় অবস্থানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
দেশের সরকারি-বেসরকারি ১৬৭টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তৈরি এ তালিকায় যবিপ্রবির অবস্থান ১৬তম। সামগ্রিক তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণে পাঁচটি সূচক বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে মোট গবেষণা প্রকাশনায় ৬০ শতাংশ, মোট উদ্ধৃতিতে ২০ শতাংশ, প্রতি প্রকাশনায় গড় উদ্ধৃতিতে ১০ শতাংশ, গবেষণায় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হারে ৫ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক এইচ-ইনডেক্সে ৫ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, তিন বছরে যবিপ্রবির গবেষকদের প্রকাশিত ১ হাজার ৩৭৪টি গবেষণাপত্র বিভিন্ন গবেষণায় মোট ১৮ হাজার ৬১৯ বার উদ্ধৃত হয়েছে। প্রতি গবেষণাপত্রে গড় উদ্ধৃতির সংখ্যা ১৩ দশমিক ৬। গবেষণায় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাতিষ্ঠানিক এইচ-ইনডেক্স ৫৬।
এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, শিক্ষকদের প্রচেষ্টা ও গবেষণার প্রতি আন্তরিকতার কারণেই স্কোপাসে সূচিবদ্ধ সাময়িকীতে গবেষণা প্রকাশনার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থান অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এ অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তিনি আরও বলেন, গবেষণার অগ্রগতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় গবেষণাগার সুবিধা ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে আগামীতে যবিপ্রবি গবেষণায় আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আমরা আশাবাদী।
উল্লেখ্য, স্কোপাস বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক গবেষণা তথ্যভান্ডার। বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণাসেবা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার পরিচালিত এ ডাটাবেজে বিভিন্ন বিষয়ের গবেষণাপত্র, বই ও সম্মেলনে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এতে গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ, লেখক, প্রকাশনার বিবরণ এবং অন্যান্য গবেষণায় সেগুলো কতবার উদ্ধৃত হয়েছে, সেই তথ্য পাওয়া যায়।
২০২৬ সালের এ র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্কোপাসে সূচিবদ্ধ ইংরেজি ভাষার গবেষণাপত্রের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।






