কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে ৩ দেশের চাপ

ছবি: সংগৃহীত
উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। দেশ তিনটি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে পিয়ংইয়ং বলছে, পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা তাদের পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণকারী কয়েকটি দেশের যৌথ বিবৃতির নিন্দা জানায় পিয়ংইয়ং। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা তাদের পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের অবস্থান বদলাতে পারবে না।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে তিন দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে নিজেদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি অংশ নেন। এ সময় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তারা। এসব প্রস্তাবের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়নে সহায়তা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহের মধ্যেই তিন দেশের এ ঘোষণা এলো। প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে কয়েক দফা ঐতিহাসিক বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। এখনো কিমকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গত বছর উত্তর কোরিয়াকে কার্যত পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। সম্প্রতি দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগও কিছুটা কমিয়ে দেখিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কিমের সঙ্গে আবারও বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নিঃশর্ত আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি প্রস্তাব করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি একবারে পুরোপুরি বন্ধ না করে প্রথম ধাপে স্থগিত করা যেতে পারে।
তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে উত্তর কোরিয়াকে কার্যত পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অস্ত্রভান্ডার অক্ষত রেখেই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে পিয়ংইয়ং।
দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া ও চীনের সমর্থন নিয়ে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি নিজেদের আইনে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের অবস্থান অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাশাপাশি সরকার তাদের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারকে স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় বলে ঘোষণা করেছে।






