হেসুসের মৃত্যু: তদন্তে স্পেন পুলিশ, প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক শাস্তির ঝুঁকিতে?

প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সাথে মাঠে সংঘর্ষের একদিন পর মঙ্গলবার মারা গেছেন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব টেনেরিফ ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগুয়েল। মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পার না হতে তদন্তে নেমেছে স্প্যানিশ পুলিশ। পুলিশ সম্ভাব্য অনিচ্ছাকৃত বা অবহেলাজনিত হত্যার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
সোমবার রাতে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে অ্যান্ডোরার বিপক্ষে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সাথে সংঘর্ষে প্রচণ্ড আঘাত পান হেসুস। মূলত মাঝমাঠের কাছে বল দখলের লড়াইয়ের সময় বিপরীত দিক থেকে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টায় ছুটে এসেছিলেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক হেসুস ওওনো, ঘটে সংঘর্ষ। অতিরিক্ত সময়ে ওওনোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। সেসময় হেসুসকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার তার ক্লাব জানায়, ৩০ বর্ষী স্প্যানিয়ার্ড ফরোয়ার্ড মারা গেছেন।
দেশটির জাতীয় পুলিশ মঙ্গলবারই জানিয়েছে, একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। স্প্যানিশ আইন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাসহ অপ্রাকৃতিক কারণে হওয়া মৃত্যু বিচার বিভাগীয় তদন্তের আওতাধীন। সান্তা ক্রুজ দে টেনেরিফের প্রধান প্রসিকিউটর হোসে লুইস সানচেজ-হাওরেগুই জানিয়েছেন, ফৌজদারি মামলা হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ সংঘর্ষটি খেলার সময় ঘটেছিল।
ম্যাচ চলাকালীন মাঠে কোন ঘটনার জেরে একজন খেলোয়াড়ের মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনার কোন পূর্ব নজির নেই। কাউকে অভিযুক্ত করা হবে কিনা, নির্ভর করবে ওওনোর করা চ্যালেঞ্জটি ‘ফৌজদারি অবহেলা’ পর্যায়ে পড়ে কিনা সেটির বিচারে।
স্প্যানিশ দণ্ডবিধির ১৪২ নম্বর ধারায় গুরুতর অবহেলাজনিত মৃত্যু এবং তুলনামূলক কম গুরুতর অবহেলাজনিত মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। গুরুতর অবহেলা প্রমাণিত হলে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে কারও। কম গুরুতর অবহেলার ক্ষেত্রে তিন থেকে ১৮ মাস সময়কালের উপর ভিত্তি করে জরিমানার বিধান রয়েছে।
টেনেরিফের বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার রাইকো গার্সিয়া জানিয়েছেন, পরিবারের অনুরোধে হেসুসের মরদেহ টোলেডো প্রদেশের নাভাহেরমোসায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শেষবিদায় জানাতে সতীর্থ ও ক্লাব কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। শনিবার ভক্তরা খেলোয়াড়কে সম্মান জানাতে দলের স্টেডিয়ামে জড়ো হবেন। শনিবার গ্রানাডার মাঠে তাদের লিগ ম্যাচটি স্থগিত করার জন্য অনুরোধ করেছে।






