রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২৫ আগস্ট

Thousands of people attending a political rally in Bangladesh, showing a large, densely packed crowd with a hill in the background. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল বাড়াতে এবং তাদের রাখাইনে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক প্রয়াস জোরদার করতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
রোববার (১৮ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে ‘অংশীজন সংলাপ: রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আলোচনার জন্য প্রাপ্ত বার্তা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আট বছর পূর্তির দিন ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকায় হোটেল বে-ওয়াচে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকার প্রধান ছাড়াও বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, রোহিঙ্গা বিষয়ক কয়েকজন আন্তর্জাতিক দূত, বিদেশে বাংলাদেশ মিশন এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারে আয়োজিত সম্মেলনটি মূলত তিনদিনের। ২৪, ২৫ ও ২৬ আগস্ট এই তিনদিন আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শরণার্থীশিবির প্রদর্শনী থাকবে।
এরমধ্যে ২৪ ও ২৫ আগস্ট পাঁচটি কর্ম অধিবেশন থাকছে। আলোচনার বিষয় রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা এবং তাদের রাখাইনে প্রত্যাবাসন শুরু করা। ২৬ আগস্ট রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন অতিথিরা।
রোহিঙ্গা সংকটের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু, ২০২৪ সালে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিস্তারসহ নানা ঘটনায় রোহিঙ্গা সমস্যাটি মনোযোগ হারিয়েছে।
এরই মধ্যে রাখাইন রাজ্য আরাকান আর্মির দখলে চলে যাওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে নিজ আবাসে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আশা হারিয়ে ফেলেছে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা।
এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার কক্সবাজারের আলোচনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পুনরায় যুক্ত করতে চাইছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য এবং আসিয়ানের মতো জোটের কাছ থেকে রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা সংগ্রহে মনোযোগ দিয়েছে সরকার।
জানা যায়, কক্সবাজার ও নিউইয়র্কের পর আগামী ডিসেম্বরে কাতারের রাজধানী দোহায় রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। কক্সবাজারের আলোচনার ভিত্তিতে নিউইয়র্ক সম্মেলনের অবস্থানপত্র প্রণয়ন করা হবে, যা পরে দোহা সম্মেলনে আলোচিত হতে পারে।
এদিকে রোববার সকালে ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন জাতিসংঘের উদ্যোগে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কক্সবাজারের সম্মেলনটি জাতিসংঘের একটি বৃহত্তর সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশবিশেষ। এই সম্মেলনটি রোহিঙ্গাদের জন্য এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য এই সমস্যার একটি স্থায়ী ও প্রকৃত সমাধান খুঁজে বের করার পথনির্দেশিকা দেওয়ার একটি বড় সুযোগ।
নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘একসময় রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক আলোচনার এজেন্ডা থেকে প্রায় বাদ পড়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের জন্য সব সদস্য রাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই আহ্বানে তাৎক্ষণিকভাবে এবং সর্বসম্মতিক্রমে সাড়া পাওয়া যায় এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এই সম্মেলন আহ্বানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিশ্বের ১০৬টি দেশ এই সম্মেলনকে স্পন্সর করেছে। এখন যথেষ্ট পরিমাণ আন্তর্জাতিক সমর্থন রয়েছে।’
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ থেকে প্রাণ বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট স্রোতের মতো রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ শুরু হয় বাংলাদেশে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের প্রায় আট বছর পেরিয়ে গেছে। বৈশ্বিক নানা ঘটনাপ্রবাহ এবং মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পর রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক মনোযোগও হারিয়েছে। কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে কমেছে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা।
উল্লেখ্য, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হবে রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন। আর কাতারের দোহায় ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন।






